সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ৭ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭০%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

দেখতে সুন্দর হলেও ধরা-খাওয়া যায় না এই মাছ

মাছের নাম সিংহ। বনের রাজা নয় বরং সামুদ্রিক বিষাক্ত প্রাণী। সিংহমাছ পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত মাছের মধ্যে অন্যতম। বিষাক্ত হলেও এদের রয়েছে আকর্ষণীয় সৌন্দর্য। জাপানের ফুজি পর্বতের ছায়ায় রয়েছে সুরুগা উপসাগর। ৪০ মাইল দীর্ঘ ও ১৫ থেকে ৩৫ মাইল চওড়া এই সুরুগা উপসাগরেই অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে সিংহমাছের বাস।

মাছের নাম সিংহ। বনের রাজা নয় বরং সামুদ্রিক বিষাক্ত প্রাণী। সিংহমাছ পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত মাছের মধ্যে অন্যতম। বিষাক্ত হলেও এদের রয়েছে আকর্ষণীয় সৌন্দর্য। জাপানের ফুজি পর্বতের ছায়ায় রয়েছে সুরুগা উপসাগর। ৪০ মাইল দীর্ঘ ও ১৫ থেকে ৩৫ মাইল চওড়া এই সুরুগা উপসাগরেই অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে সিংহমাছের বাস।

সমুদ্রের শৈলশ্রেণিতে এরা বসবাস করে। এদের মূল আবাস পশ্চিম আটলান্টিক, ইন্দো প্যাসিফিক, গালফ অব মেক্সিকো এবং ক্যারিবিয়ান সাগরে। বঙ্গোপাসাগরেও দেখা যায় এদের। মূলত উষ্ণ অঞ্চলগুলোতে পাথর এবং কোরাল রিফের আড়ালে এরা বাস করে। সিংহের কেশরের মতো পাখনা বিশিষ্ট এ সামুদ্রিক মাছটি দেখতে সিংহের মতো হওয়ায় এমন নামকরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে লায়ন ফিশের বিভিন্ন রকম নাম রয়েছে। টার্কি ফিশ, ড্রাগন ফিশ, স্কর্পিয়ন ফিশ, ইত্যাদি। এদের দেহের উপরিভাগ বিষাক্ত হলেও ভেতরের অংশ বিষাক্ত নয়।

শিকার ধরার জন্যও এরা পাখনা ব্যবহার করে। এরা লাল, কালো, সাদা এবং বাদামি রঙের হয়। সিংহ মাছের দেহে রয়েছে বিচিত্র ডোরা দাগ। পাখনাগুলো পাখির পালকের মতো নরম। যখন বিচিত্র রঙের পাখনাগুলো মেলে ধরে তখনই এদের আসল সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। এদের দেহের রং এদের সমুদ্র তলদেশের প্রবালের সঙ্গে মিলে যেতে সাহায্য করে। তখন এদের প্রবাল থেকে আলাদা করা কঠিন। মাছের প্রধান খাবার ক্ষুদ্র এবং অমেরুদণ্ডী প্রাণী। কাঁকড়া, সামুদ্রিক চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ এদের খাবার। এদের খাবার গ্রহণ কৌশল ভিন্ন ধরনের। প্রথমে শিকারের জন্য অপেক্ষা করে। শিকার নাগালে এলেই ধরে আস্ত গিলে ফেলে। সিংহমাছের হাঁ এত বড় যে নিজের সমান প্রাণীও গিলে ফেলতে পারে।

সিংহ মাছ যখন খুব ধীরগতিতে চলাচল করে তখন এদের দেখতে ভীষণ সুন্দর লাগে। মাঝে মাঝে এরা পানিতে স্থির হয়ে ভেসে থাকে। রাতে এ রকম ভেসে থাকা সিংহ মাছকে ভূতুড়ে মনে হয়। দিনের বেলা পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। সূর্য ডুবলেই নেমে পড়ে শিকারে। অন্য মাছ এদের শিকার করতে ভয় পায় পাখনার বিষাক্ত কাঁটার জন্য। এরা পাঁচ থেকে ১৫ বছর বাঁচে। বর্তমানে এই মাছের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

এদের মূল আবাস যেহেতু সামুদ্রিক রিফ এবং পাথুরে এলাকায়, তাই বিভিন্ন বিরল প্রজাতির মাছ এবং প্রাণী এদের খাদ্যে পরিণত হবার কারণে দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে। কিছু দেশে সিংহ মাছকে সুস্বাদু খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও খাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। তবে সৌন্দর্যের কারণে ব্যবসার ক্ষেত্রে এদের চাহিদা অনেক।

এদিকে চলতি বছরের জুলাই মাসে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল দুটি সিংহ মাছ (লায়নফিশ)। রঙিন ডোরাকাটা মাছটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। এফবি জাবের নামের মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা মাছ দুটি পান। দুটি মাছের ওজন প্রায় ৭৫০ গ্রাম। ট্রলারের মাঝি আসাদ উদ্দিন বললেন, এমন মাছ তিনি আগে কখনো দেখেননি। মাছ দুটি কলাপাড়ার আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের 'মায়ের দোয়া ফিশ' নামের আড়তে নেওয়া হয়।

খবর পেয়ে মাছ দুটি দেখতে আড়তে ভিড় করেন অনেকেই। আড়তের মালিক মোহাম্মদ সোহাগ মাছ দুটি পাঁচ হাজার টাকা কেজি দরে মোট তিন হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেন। মাছ দুটি কিনেছেন ছগির আকন নামের একজন। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় তিনি এগুলো কিনেছেন বলে জানালেন। এগুলো সংরক্ষণের ইচ্ছা তার।

মাছ দুটির ছবি দেখানো হয়েছিল ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলীকে। তিনি বলেন, 'এগুলো স্কর্পিয়নফিশ পরিবারের লায়নফিশ। স্থানীয়ভাবে একে রঙ্গিলা, সিংহ রঙ্গিলা বা বাঘা মাছও বলা হয়। এই মাছের দেহজুড়ে লালচে-বাদামি ও সাদা ডোরা। পিঠে খাড়া সূচালো কাঁটা। মাছটিকে বিপজ্জনক উল্লেখ করে আরও বলেন, এ মাছের পিঠের, পায়ু ও পাখনার কাঁটার গোড়ায় বিষগ্রন্থি থাকে। কাঁটার আঘাতে তীব্র ব্যথা হয়। আঘাতের জায়গা ফুলে যেতে পারে। প্রদাহ হতে পারে। মাছ মারা যাওয়ার পরও কাঁটা বিপজ্জনক। তিনি জেলে ও আড়তদারদের সতর্কতার সঙ্গে মাছটি ধরার পরামর্শ দেন।'

এই শিক্ষক আরও জানান, মাছটি ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রজাতি। বঙ্গোপসাগরেও তাদের বিচরণ আছে। এটি আগ্রাসী প্রজাতি হিসেবে পরিচিত। তবে বাংলাদেশের জলসীমায় এটি বহিরাগত নয়। এ কারণে কুয়াকাটায় এ মাছ ধরা পড়া নতুন কোনো হুমকি নয়। উপকূলে এ মাছ সচরাচর দেখা যায় না মন্তব্য করে কলাপাড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কাঁটা ও বিষাক্ত অংশ অপসারণ করলে এ মাছ খাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে এ মাছ খাওয়ার প্রচলন আছে। এর মাংস সাদা ও সুস্বাদু।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

শুঁটকি ঘিরে জীবিকা, মাছ শুকানোর মাচায় শুকায় জেলের স্বপ্ন

দূর থেকে শুঁটকি তৈরির এই কর্মযজ্ঞকে নিছক মাছ শুকানোর কাজ মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি মাচার পেছনে রয়েছে একেকটি পরিবারের গল্প। কারও জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা, কারও কাছে এটি বংশপরম্পরায় পাওয়া পেশা, আবার কারও কাছে বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন। উপকূলের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা এভাবেই জড়িয়ে

জাগো নিউজ ২৪৭ নভেম্বর ২০২৬১১ মিনিটের পড়া
পলি-বালুতে ভরাট হাকালুকি ও হাইল হাওরের ১০ মৎস্য অভয়াশ্রম, ঝুঁকিতে ১৪৩ প্রজাতির মাছমৎস্য

পলি-বালুতে ভরাট হাকালুকি ও হাইল হাওরের ১০ মৎস্য অভয়াশ্রম, ঝুঁকিতে ১৪৩ প্রজাতির মাছ

খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মৌলভীবাজারের ১০টি সরকারি মৎস্য অভয়াশ্রম ভরাট হয়ে যাচ্ছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, পুনর্খননের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সমকাল৭ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
গলদা-পাঙাশের খাদ্যে নির্বিচারে শামুক সংগ্রহ ডুমুরিয়ায়, খোলস ভাঙছে শিশুরাওমৎস্য

গলদা-পাঙাশের খাদ্যে নির্বিচারে শামুক সংগ্রহ ডুমুরিয়ায়, খোলস ভাঙছে শিশুরাও

ডুমুরিয়ার ঘেরে গলদা চিংড়ি ও পাঙাশের দ্রুত বৃদ্ধির আশায় খাল-বিল থেকে অবাধে শামুক তোলা হচ্ছে। মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন এতে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়, আর খোলস ভাঙার কাজে যুক্ত হচ্ছে শিশুরাও।

সমকাল৭ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)