খুলনার ডুমুরিয়ায় গলদা চিংড়ি ও পাঙাশের দ্রুত বৃদ্ধির আশায় খাল, বিল ও মুক্ত জলাশয় থেকে অবাধে শামুক সংগ্রহ করা হচ্ছে। খোলস ছাড়ানো মাংস টুকরা করে খাওয়ানো হচ্ছে ঘেরের মাছকে। এতে জলজ পরিবেশের এই প্রাণী কমছে, খোলসের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, আর অস্বাস্থ্যকর এই কাজে নামছে শিশুরাও।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে গলদা চিংড়ি এবং সাড়ে পাঁচ শতাধিক ঘেরে পাঙাশের চাষ হচ্ছে। মাছচাষি আমিনুর রহমান গাজী ও বিমলকৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, শামুকের মাংসে মাছ দ্রুত বাড়ে, তাই চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে।
প্রতি ১০০টি শামুক এখন ২৫ থেকে ৩০ টাকায় এবং খোলস ছাড়ানো মাংস প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শামুক কুড়িয়ে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয় বলে জানান বিলপাবলা গ্রামের অমল কুমার রায় ও অনিতা বিশ্বাস। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, বাগেরহাট, ঝালকাঠি ও কুষ্টিয়া থেকেও ট্রাকে বস্তাবন্দি শামুক আসছে।
সড়কের পাশে ও ঝুপড়িঘরে চলছে শামুক ভাঙার কাজ। হাসানপুর গ্রামের হাসিনা বেগম ও জোবায়দা বেগম জানান, একজন দিনে প্রায় তিন বস্তা ভাঙতে পারেন, আয় হয় ৪০০ টাকা। ছয় ও সাত বছরের দুই শিশু জানিয়েছে, তারা মা-বাবার সঙ্গে বিনা পয়সায় এ কাজ করছে। জেলা সিভিল সার্জন শেখ সুফিয়ান রুস্তম বলেন, এতে শিশুরা চর্মরোগ, পেটের পীড়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে, আর ধারালো খোলসে গুরুতর ক্ষত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সোয়েল জিল্লুর রহমান রিগান জানান, শামুক পানির প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে কাজ করে এবং এর নিধনে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়। মাছচাষিদের শামুকের বদলে কোম্পানির ফিড, সিদ্ধ চাল, গম কিংবা খুদ-কুড়া ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উত্তরণ সংস্থার পরিবেশকর্মী শেখ সেলিম আক্তার স্বপন যত্রতত্র ফেলে রাখা খোলসের ঝুঁকির কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, শিশুদের দিয়ে এ কাজ করানো শিশুশ্রমের আওতায় পড়ে এবং আইনে নিষিদ্ধ; খোঁজ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ছবি: Symoum Syfullah Priyo / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)