শীত আসতেই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বঙ্গোপসাগরের উপকূলে শুরু হয়েছে শুঁটকি তৈরি। গহিরা উপকূলের পরুয়াপাড়ার ফুলতলী এলাকার বেড়িবাঁধে ছোট চিংড়িসহ নানা সামুদ্রিক মাছ রোদে শুকানো হচ্ছে। তবে মৌসুমের শুরুতে সাগরে আশানুরূপ মাছ না মেলায় উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় আছেন মৎস্যজীবীরা।
দৈনিক আজাদীর প্রতিনিধি এম. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বার আউলিয়া, উঠান মাঝি, বাইগ্যার ঘাট, দোভাষী ঘাট ও গলাকাটা ছত্তার মাঝি ঘাটেও একই চিত্র। কেউ কাঁচা মাছ বাছছেন, কেউ রোদে বিছাচ্ছেন, কেউ শুকানো মাছ তুলে রাখছেন।
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ২৯ অক্টোবর থেকে আবার সাগরে নেমেছেন জেলেরা, কিন্তু শুরুতে প্রত্যাশিত মাছ পাচ্ছেন না। গহিরার মৎস্যজীবী হেমন্ত জলদাশ বলেন, এখন মূলত ছোট চিংড়ির শুঁটকি হচ্ছে, যা স্থানীয়ভাবে ইছা শুঁটকি নামে পরিচিত। ছুরি ও অন্য মাছ এখনো আশানুরূপ ধরা পড়ছে না, তবে সামনের জোয়ারগুলোতে মাছ বাড়বে বলে তাঁর আশা।
গহিরা উপকূলীয় বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রীস বলেন, আনোয়ারায় সাত হাজারের বেশি নিবন্ধিত জেলে আছেন, তাঁদের প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ জন উপকূলে শুঁটকি তৈরির সঙ্গে যুক্ত। পূর্ব গহিরা, ঘাটকূল ও ফকিরহাটের কয়েকশ জেলে ট্রলারেই ছুরি, লইট্যা, পোপা ও পাইস্যা শুকান। অনেকে গভীর সমুদ্রে গিয়ে রাঙ্গাবালী ও সোনাদিয়া এলাকায় ট্রলারেই শুঁটকি করেন।
মৎস্যজীবী কালু মিয়া বলেন, অধিকাংশ জেলে পাইকারি বাজার থেকে কাঁচা মাছ কিনে ইছা শুঁটকি করেন, কারণ এটি শুকাতে কম সময় লাগে, দ্রুত বাজারে নেওয়া যায় এবং লাভের সম্ভাবনাও বেশি। স্থানীয় রেস্তোরাঁর পাশাপাশি চট্টগ্রামের চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে এই শুঁটকি যায়।
মৎস্যজীবীদের দাবি, রোদে শুকানো এই শুঁটকিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা বিষাক্ত দ্রব্য ব্যবহার করা হয় না। তাঁদের মতে, চলতি মৌসুমের উৎপাদন নির্ভর করছে আবহাওয়া ও সাগরে মাছের সরবরাহের ওপর।
সূত্র: দৈনিক আজাদী




মন্তব্য
(০)