খনন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মৌলভীবাজারের হাকালুকি ও হাইল হাওরের ১০টি সরকারি মৎস্য অভয়াশ্রম পলি ও বালুতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে মাছের বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র ছোট হয়ে আসছে, ঝুঁকিতে পড়েছে দেশীয় প্রায় ১৪৩ প্রজাতির মাছ।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাকালুকি হাওরের কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী অংশে তেকুনিয়া, মাইয়াজুড়ি, কোয়ার কোনা, মাইছলার ডাক ও সানে মেদীসহ মোট ৯টি বিল স্থায়ী অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এগুলো গড়ে ওঠে, সর্বশেষ ২০২৫ সালে যুক্ত হয় সানে মেদী বিলের এক হেক্টর। শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে তিনটি বিল নিয়ে ১১৮ হেক্টরের বাইক্কা বিল অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয় ২০০৩ সালে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় জলাশয়ের গভীরতা কমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমলে মাছের আশ্রয় সংকুচিত হয়, বর্ষায় কচুরিপানা ও আগাছা ছড়িয়ে পড়ে। গভীর জলাশয় ও প্রাকৃতিক গর্ত ভরাট হওয়ায় ডিম ছাড়া ও পোনা বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পদ্ম ও শাপলার আবাস ছোট হচ্ছে, পরিযায়ী পাখি কমে যাওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাইক্কা বিলের দায়িত্বে থাকা বড় গাঙ্গিনা বিল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মিন্নত আলী জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং, গভীরতা পুনরুদ্ধার ও সরকারি তদারকি বাড়ানোর কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় নেতা আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, অবশিষ্ট দেশীয় প্রজাতি রক্ষায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পলি অপসারণ ও পরিকল্পিত খনন জরুরি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফ হোসেন ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পুনর্খননের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং শিগগিরই সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীও সমন্বিত উদ্যোগের আশা প্রকাশ করেছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, শুধু খনন করলেই সংকট কাটবে না। এর সঙ্গে দরকার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, অবৈধ দখল ও প্রজনন মৌসুমে ক্ষতিকর আহরণ বন্ধ এবং জলজ উদ্ভিদ ও পাখির আবাস সংরক্ষণ।
ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)