বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিজেরা করি-র সমন্বয়কারী খুশী কবির। জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে বলেও জানান তিনি। শনিবার (৭ নভেম্বর) খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিণখোলায় শহীদ করুণাময়ী স্মৃতিবেদীতে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন, জানিয়েছে সমকাল।
চিংড়ি ঘের ও বহিরাগতদের আগ্রাসন ঠেকিয়ে কৃষিজমি রক্ষার আন্দোলনে নিহত করুণাময়ী সর্দারের ৩৬তম মৃত্যুদিবসে নিজেরা করি ও স্থানীয় ভূমিহীন সংগঠন যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপকূলের নারী-পুরুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
খুশী কবির বলেন, জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে বহিরাগতরা মৎস্য হ্যাচারি গড়ছে, যা পরিবেশের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। ২২ নম্বর পোল্ডারে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণকে তিনি এলাকার মানুষের মূল দাবি হিসেবে তুলে ধরেন এবং এ দাবি আদায়ে প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান। ভূমিহীন নেতা শহীদুল ইসলামও বলেন, বহিরাগতরা হ্যাচারি করে কৃষিজমি নষ্ট করছে।
লবণপানির প্রভাব তুলে ধরে ভূমিহীন নেত্রী ইতিকা বৈরাগী বলেন, নোনাপানির আগ্রাসনে উপকূলের নারীরা নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন। আরেক নেত্রী শাহিনুর বেগম জানান, ২২ নম্বর পোল্ডারের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা ৩০ নম্বর পোল্ডারকে ঘেরমুক্ত করে সেখানে কৃষির পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছেন।
ভূমিহীন নেতা লোকেশ্বর কবিরাজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এলাকার নদী ও খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে নদী খনন না করলে গোটা কৃষিব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে। সভায় পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সমারকান্তি হালদার, সরকারি বি এল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল ও নিজেরা করি-র কার্যনির্বাহী সদস্য আফজালুন্নেসা চৌধুরীও বক্তব্য দেন। শেষে লবণাক্ততার প্রভাব নিয়ে পুতুলনাচ ও উপকূলীয় জীবনের সংকট নিয়ে নাটক নোনা কাব্য মঞ্চস্থ হয়।
সূত্র: সমকাল


মন্তব্য
(০)