নভেম্বর এলেই উপকূলের মানুষের মনে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা ফিরে আসে। ইতিহাসের কয়েকটি ভয়াবহ দুর্যোগ এই মাসেই আঘাত হেনেছে, আর এ সময়েই অনেক এলাকায় আমন ধান পেকে কাটার অপেক্ষায় থাকে। ফলে প্রাণের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত হয় পুরো মৌসুমের ফসল হারানোর ভয়।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্যে, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর ভোলা সাইক্লোনের জলোচ্ছ্বাসে আনুমানিক তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ১৯৮৮ সালের ২৯ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ হাজার ৭০৮ জনের মৃত্যুর উল্লেখ আছে ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানে, আর ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে সরকারি হিসাবে মারা যান ৩ হাজার ৩৬৩ জন।
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা সাধারণত দুই সময়ে বেশি: প্রাক্-বর্ষার এপ্রিল-মে এবং বর্ষা-পরবর্তী অক্টোবর-নভেম্বর। মৌসুমি বায়ুর পরিবর্তন, বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া ও সমুদ্রের উষ্ণতা এই সময়ে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তবে বছরের অন্য সময়েও ঝুঁকি থেকে যায়।
কৃষিতে এই ঝুঁকির মাপ বোঝা যায় সিডরের হিসাবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্যে, সিডরে ১ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমি সম্পূর্ণ এবং আরও প্রায় ৪ লাখ ৯৯ হাজার হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছিল পাঁচ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি।
বরগুনা সদরের বালিয়াতলীর কৃষক হামিদ মিয়া বলেন, ধান কাটার সময় ঘূর্ণিঝড় হলে এক রাতেই সব শেষ হয়ে যায়, আর জমিতে লবণাক্ত পানি ঢুকলে পরের আবাদ নিয়েও দুশ্চিন্তা থাকে। আগাম সতর্কবার্তার পাশাপাশি ক্ষতির পর সহায়তা ও পুনর্বাসনের নিশ্চয়তাও তিনি চান।
ঝুঁকি জেলেদেরও। সতর্কবার্তা এলে নৌকা ও ট্রলার ফিরিয়ে আনতে হয়, ঝড়ে নৌকা বা জাল নষ্ট হলে আয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। মনপুরার আয়নাল উদ্দিন নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি নৌকা-জালের সুরক্ষা ও দুর্যোগ-পরবর্তী আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। বেড়িবাঁধ ভাঙলে লবণাক্ত পানি দীর্ঘদিন জমে থেকে কৃষিজমির উৎপাদন ব্যাহত করে এবং পুকুর দূষিত হয়ে নিরাপদ পানির সংকটও তৈরি হয়।
প্রতিবেদনটি করেছেন জাগো নিউজের খায়রুল বাশার আশিক।
ছবি: Amdadphoto / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪



মন্তব্য
(০)