জীবাশ্ম জ্বালানির তৈরি তাপের প্রায় ৯০ শতাংশই শুষে নিয়েছে মহাসাগর, অথচ জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে সে প্রায়ই উপেক্ষিত থেকেছে। চলতি মাসে তুরস্কে কপ৩১ শুরুর আগে ডায়ালগ আর্থকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন কিলাপার্তি রামকৃষ্ণ (Kilaparti Ramakrishna)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উডস হোল ওশানোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশনের সামুদ্রিক নীতি কেন্দ্রের পরিচালক। জাতিসংঘের জলবায়ু সনদ ও কিয়োটো প্রটোকলের খসড়া তৈরিতেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
তাঁর মতে, সমুদ্র প্রশ্নে অগ্রগতির দিক ঠিক আছে। ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির ভূমিকায় সমুদ্রের কথা ছিল মাত্র একবার। এখন প্রশান্ত মহাসাগরের জন্য ফিজির ইনিয়া সেরুইরাতু, অস্ট্রেলিয়ার টনি ওয়ার্বি এবং জাতিসংঘের পিটার থমসনের মতো দূত আছেন। আমাজনে হওয়া কপ৩০ সমুদ্র ও বনকে একসঙ্গে দেখেছে।
তবু কাজ শেষ হয়েছে বলা যাবে না, বলেন রামকৃষ্ণ। এগুলো এখনো কাগজের লেখা, যা বাস্তবে রূপ দিতে হবে।
তাঁর মূল কথা দেশগুলোর জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা নিয়ে। সেখানে সমুদ্রকে আনতে হলে জানতে হবে, ম্যানগ্রোভ ও কেল্প বনের মতো বাস্তুতন্ত্র এখন কতটা কার্বন ধরে রাখছে, আর কোনো পদক্ষেপে তা কতটা বাড়বে।
জলসীমা নিয়ে সংস্থাগুলোর জটিলতাও মেটাতে বলেছেন তিনি। উন্মুক্ত সাগরের জীববৈচিত্র্য চুক্তি, জীববৈচিত্র্য সনদ, জলবায়ু সনদ, আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষ, আঞ্চলিক মৎস্য সংস্থা, সঙ্গে জাহাজ চলাচল থেকে কার্বন কমানো, সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত কৌশল দরকার।
জলবায়ু সমাধানে সমুদ্রকে লাগবে, তবে তা করতে গিয়ে যেন নতুন সমস্যা তৈরি না হয় এবং পরিবেশের ক্ষতি যেন যতটা সম্ভব কম থাকে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।
ছবি: PatríciaR / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: Dialogue Earth



মন্তব্য
(০)