খরিফ ফসল কাটার মাঝপথে উত্তর ভারতে অকালবৃষ্টি, জোরালো বাতাস ও বজ্রঝড়ে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঠের পাকা ধান নুয়ে পড়েছে, আর শস্য বাজারে (মান্ডি) খোলা জায়গায় রাখা ধান ভিজে গেছে বলে জানিয়েছে রুরাল ভয়েস। ধানের মান, সরকারি ক্রয় ও সংরক্ষণ নিয়ে কৃষকেরা দুশ্চিন্তায়।
১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় পাঞ্জাবে বৃষ্টি হয়েছে ২.৩ মিলিমিটার, যেখানে স্বাভাবিক ০.৪ মিলিমিটার; অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৭৭ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি ফাজিলকায় ২৮ মিলিমিটার, এরপর ফরিদকোট ৯, মুক্তসর ৭.৭, পাঠানকোট ৩.৯, ফিরোজপুর ২.৪ ও ভাতিন্ডা ১.৩ মিলিমিটার। ফাজিলকার শস্য বাজারের কিছু অংশে প্রায় তিন ফুট পানি জমেছিল; খান্না, বাটালা ও গুরদাসপুরের বাজারে খোলা জায়গার ধান ভিজেছে।
পাঞ্জাবে ধান কাটা আগে থেকেই ধীর ছিল: ১০ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ কাটা হয়েছিল। জলাবদ্ধ মাঠে কম্বাইন হারভেস্টার চলতে না পারায় কিছু এলাকায় কাটা চার থেকে সাত দিন পিছিয়ে যেতে পারে। বস্তায় রাখা ধানসহ ভেজা ধান দ্রুত না শুকালে নষ্ট হয়ে অঙ্কুর গজাতে পারে। হরিয়ানার আম্বালা ও কারনালের বাজারেও ভেজা ধানের খবর এসেছে; ক্রয়কেন্দ্রে পানি নিষ্কাশন ও ঢাকার ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত বলে কৃষকদের অভিযোগ।
উত্তর প্রদেশে কোথাও কোথাও গাছ উপড়ে পড়েছে, শিলাবৃষ্টিও হয়েছে; সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে আগেই খরিফ ফসলের ক্ষতি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জেলা প্রশাসকদের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। ১২ অক্টোবর রাজ্য সরকার জানায়, বন্যা, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৯ লাখের বেশি কৃষকের ব্যাংক হিসাবে মোট ৪৯৩ কোটি রুপি পাঠানো হচ্ছে; সাম্প্রতিক বৃষ্টির ক্ষতি আলাদাভাবে নিরূপণ করতে হবে।
তিন রাজ্যে অক্টোবরের বৃষ্টিতে মোট ক্ষতির কোনো সমন্বিত সরকারি হিসাব এখনো মেলেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন জরুরি কাজ হলো মাঠ ও বাজার থেকে পানি সরানো, খোলা ধান ঢেকে শুকানো এবং দ্রুত ক্ষতি নিরূপণ, যাতে যাচাই করা ক্ষতির ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) ১২ অক্টোবর হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি ও পশ্চিম উত্তর প্রদেশের কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রঝড়, আর ১৩ অক্টোবর পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও দিল্লিতে ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাসের পূর্বাভাস দিয়েছে।
সূত্র: Rural Voice



মন্তব্য
(০)