অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার সময় অনেক রোগীর বড় কষ্ট বমি বা বমিভাব, চিকিৎসকেরা যাকে বলেন পোস্ট-অপারেটিভ নসিয়া অ্যান্ড ভমিটিং। ওষুধ দেওয়ার পরও তা সব সময় পুরোপুরি কমে না। চীনের একদল গবেষক দেখেছেন, অস্ত্রোপচারের পুরো সময় রোগীর কানে শব্দরোধী ইয়ার ডিফেন্ডার পরিয়ে রাখলে এই সমস্যা কমে আসতে পারে।
সুচৌ ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের গবেষক হুয়াইউ লিউ ও তাঁর দল সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোতে অনুষ্ঠিত অ্যানেসথেসিওলজি সম্মেলনে এ ফল তুলে ধরেন। পরীক্ষায় অংশ নেন ১৯২ জন নারী রোগী, যাঁদের সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে কিহোল বা ল্যাপারোস্কপিক অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল।
রোগীদের দুই দলে ভাগ করা হয়। একটি দলের কানে অস্ত্রোপচার শুরুর আগে থেকে শেষ পর্যন্ত শব্দরোধী ইয়ার ডিফেন্ডার পরানো ছিল, অন্য দলের ছিল না। দুই দলই নিয়মমতো অজ্ঞান করার ওষুধ এবং বমি প্রতিরোধের প্রচলিত ওষুধ পেয়েছেন।
অস্ত্রোপচারের পর ৪৮ ঘণ্টায় ইয়ার ডিফেন্ডার পরা দলের ৩৫ শতাংশ রোগীর বমি বা বমিভাব হয়েছে; অন্য দলে এই হার ছিল ৫২ শতাংশ। ডিফেন্ডার পরা যাঁদের বমিভাব হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও মাত্রা ছিল কম।
লিউয়ের মাপে, সাধারণ একটি অপারেশন থিয়েটারে শব্দের গড় মাত্রা প্রায় ৬৬ ডেসিবল, ঘরে দুজনের স্বাভাবিক কথাবার্তার কাছাকাছি: চিকিৎসকদের কথা, যন্ত্রপাতির আওয়াজ আর মনিটরের একটানা সংকেত। গবেষকদের ধারণা, অজ্ঞান অবস্থাতেও এই শব্দ স্নায়ুতন্ত্রে চাপ তৈরি করে, যা মস্তিষ্কের বমি নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে নাড়া দেয়। হিউস্টনের বেলর কলেজ অব মেডিসিনের গবেষক ভিগি ক্যাটলোউইটজও বলছেন, অ্যানেস্থেসিয়া মস্তিষ্কের কোনো 'অফ বাটন' নয়; শরীর অবশ থাকলেও মস্তিষ্ক চারপাশের শব্দ প্রক্রিয়া করে।
তবে লিউ নিজেই স্পষ্ট করেছেন, শব্দ আটকালে ঠিক কোন পথে বমিভাব কমে, তা এখনো নিশ্চিত নয়; ব্যাখ্যাটি আপাতত অনুমান। ফলটি সম্মেলনে উপস্থাপিত একটি পরীক্ষার, আরও বড় পরিসরে বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।
লেখা: কমল দাস, বিজ্ঞানচিন্তা
ছবি: Dr.jayesh amin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বিজ্ঞানচিন্তা



মন্তব্য
(০)