চকলেটের কাঁচামাল কোকো গাছের রোগ সহনশীল নতুন জাত তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। বিশ্ববিদ্যালয়টি জাতটির লাইসেন্স দিয়েছে কোকোকেন্দ্রিক জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোনেটিকা (AgroNetica)-কে। প্রতিষ্ঠানটি মাঠে পরীক্ষা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত সরাসরি চাষিদের কাছে চারা বিক্রি করতে চায়, জানিয়েছে অ্যাগ্রোপেজেস।
জাতটি এসেছে উদ্যানতত্ত্ব ও উদ্ভিদ আণবিক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক মার্ক গিল্টিনান (Mark Guiltinan) এবং উদ্ভিদ জৈবপ্রযুক্তির গবেষণা অধ্যাপক সিয়েলা ম্যাক্সিমোভার কয়েক দশকের কাজ থেকে। তাঁরা দুজন পেন স্টেটের কোকো আণবিক জীববিজ্ঞান কর্মসূচির যৌথ পরিচালক। আশির দশকে শিল্পখাতের সহায়তায় গড়া এ কর্মসূচি কোকো জৈবপ্রযুক্তির মৌলিক সরঞ্জাম তৈরি করেছে, গুরুত্বপূর্ণ জিনগত পথের মানচিত্রও করেছে।
গিল্টিনান বলেন, তাঁদের লক্ষ্য এমন সরঞ্জাম তৈরি, যাতে চাষিরা টেকসই ও লাভজনকভাবে কোকো উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেন। রোগ, বদলে যাওয়া আবহাওয়া ও অন্যান্য চাপে বিশ্বজুড়ে কোকো ঝুঁকিতে। তাঁর হিসাবে, ছত্রাকসদৃশ জীবাণুর কারণে হওয়া ব্ল্যাক পড রোগই বিশ্বে কোকোর ফলন প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেয়।
আমাজন বনের স্থির পরিবেশে বড় গাছের ছায়ায় কোকোর উৎপত্তি, অথচ এখন আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় একেবারে ভিন্ন পরিবেশে চাষ হয়। গিল্টিনানের মতে, বৃষ্টি, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তন উৎপাদনে প্রভাব ফেলে, কিছু পরিবর্তনে রোগের চাপও বাড়ে। গাছ পরিণত হয়ে বীজ দিতে প্রায় তিন বছর লাগে বলে প্রজনন ধীর। ম্যাক্সিমোভা বলেন, এসব গাছ নিজে থেকে যত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে, জলবায়ু বদলাচ্ছে তার চেয়ে দ্রুত।
ম্যাক্সিমোভার ভাষায়, গবেষণাগারে তৈরি প্রযুক্তি এখন কৃষকের হাতের কাছে নেওয়ার সুযোগ এসেছে। অ্যাগ্রোনেটিকার সঙ্গে চুক্তিকে তিনি নতুন অধ্যায় বলছেন, যার লক্ষ্য আবিষ্কারকে এমন সরঞ্জামে রূপ দেওয়া, যা লাখো কোকোচাষিকে সাহায্য করবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্ত করবে।
ছবি: Scot Nelson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: AgroPages





মন্তব্য
(০)