২০২৬ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যার পর নেপালের জন্য ২ কোটি ১৬ লাখ ডলার সাময়িকভাবে বরাদ্দ রেখেছে ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ (এফআরএলডি)। নির্দিষ্ট কোনো দুর্যোগে জলবায়ু তহবিলটির এটাই প্রথম সাড়া। তবে এই অর্থ দেশটির আনুমানিক পুনরুদ্ধার চাহিদার অর্ধ শতাংশও নয়।
তহবিলের প্রাথমিক কার্যপর্ব 'বার্বাডোজ ইমপ্লিমেন্টেশন মোডালিটিজ'-এর আওতায় পরীক্ষামূলক পদ্ধতিতে নেপালকে অর্থের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়। এই পর্বের প্রথম প্রস্তাব আহ্বান ঘোষণা হয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্রাজিলের বেলেমে কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনে। নেপাল প্রস্তাব জমা দেয় ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট।
নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে লাংটাং লিরুং পর্বতের একটি হিমবাহ থেকে পাথর ও বরফ ধসে পড়ার পর ভোটে কোশির আকস্মিক বন্যা হয়; উষ্ণতা বৃদ্ধি ও পর্বতের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনকে এর কারণ ধরা হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের তথ্যে, ঢলে ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থার কয়েকটি জলবিদ্যুৎ বাঁধ ধ্বংস হয়, গ্রাম ভেসে যায়; অন্তত ১,৪৫১ জন মারা যান, নিখোঁজ ৫,৭৪৫ জন। সরকারের হিসাবে মোট ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২৭০ কোটি ডলার, আর দুর্যোগ-পরবর্তী যৌথ চাহিদা মূল্যায়নে পুনরুদ্ধারের খরচ ধরা হয়েছে ৪৭৭ কোটি ডলার।
এফআরএলডির নির্বাহী পরিচালক ইব্রাহিমা শেখ দিওং বলেন, এই মুহূর্তে এগিয়ে এসে বোর্ড দেখিয়েছে যে মাঠের জরুরি চাহিদা অনুযায়ী তারা কার্যক্রম বদলাতে পারে। ২০২২ সালে মিসরের শারম আল-শেখে কপ২৭ সম্মেলনে তহবিলটি গঠিত হয়, আর ২০২৩ সালে দুবাইয়ে কপ২৮-এ চালু হয়।
জলবায়ু আন্দোলনকর্মীরা সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও সাত সপ্তাহ সময় লাগার সমালোচনা করেছেন। ফিল দ্য ফান্ড প্রচারণার বৈশ্বিক আহ্বায়ক হরজিৎ সিং বলেন, উন্নত দেশগুলো অর্থ রাখার পক্ষে থাকলেও জোর দিয়েছে যে এটি যেন নজির না হয়ে দাঁড়ায়; তিনি এমন একটি স্থায়ী দ্রুত সাড়াদান ব্যবস্থার দাবি জানান, যা মাসে নয়, দিনে সহায়তা পৌঁছাবে। রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনালের জোসেলিন পেরি কমিউনিটি সংগঠনের জন্য ছোট অনুদানসহ সরাসরি অর্থ পাওয়ার সহজ পথ খোলার আহ্বান জানান।
ফিল দ্য ফান্ড প্রচারণা বলছে, গবেষণার হিসাবে ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জলবায়ুজনিত অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বছরে গড়ে প্রায় ৪০,০০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে, যার তুলনায় কয়েক কোটি ডলারের সাড়া খুবই সামান্য।
ডাউন টু আর্থের পক্ষে খবরটি দিয়েছেন অক্ষিত সাংগোমলা।
ছবি: Ahtih / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)