বাংলাদেশের পাখির তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি প্রজাতি। রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে প্রথমবার হলুদগলা চড়ুইয়ের (ইয়েলো-থ্রোটেড স্প্যারো) উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন গবেষকেরা, আর বিশ্বে পাখিটির নথিভুক্ত বিচরণস্থলের মধ্যে কাপ্তাই এখন সবচেয়ে পূর্বের এলাকা। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘চেক লিস্ট’-এ ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত গবেষণাপত্রের বরাতে খবরটি দিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।
এ বছরের ২৪ এপ্রিল কাপ্তাইয়ের বড়ইছড়িতে পাখি দেখতে গিয়ে আহসান উদ্দিন চৌধুরী, রায়হান বাবলু ও জহির মাহমুদ সোহাগ বনের পাশের সড়কের ধারে উঁচু ডালে পাখিটিকে দেখে ছবি তোলেন। ছবি আর শারীরিক বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হয়: মাথা ও পিঠ বাদামি-ধূসর, সরু ঠোঁট, গলায় স্পষ্ট হালকা হলুদ দাগ, কাঁধের কাছে খয়েরি পালক, ডানায় সাদা দাগ আর চোখের পাশে আলাদা রেখা।
গবেষণাপত্রের লেখক আহসান উদ্দিন চৌধুরী, রায়হান বাবলু, জহির মাহমুদ সোহাগ ও নাজমুল হাসান; তাঁরা চট্টগ্রাম বার্ড ক্লাব এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ইকো-ক্লাইমেট ল্যাব ও অ্যানিমেল ইমিউনাইজেশন ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, পাখিটি সাধারণত দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার শুষ্ক ও আধা-শুষ্ক অঞ্চলের খোলা বন, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি ও গ্রামীণ বসতিতে থাকে; এর আগে সবচেয়ে পূর্বের নিশ্চিত রেকর্ড ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গে।
আহসান উদ্দিন চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, পাখিটি শুষ্ক পরিবেশের, অথচ কাপ্তাইয়ের বন অনেক আর্দ্র, তাই এখানে এর উপস্থিতি বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এটি পাখিটির বিচরণসীমা বাড়ার ইঙ্গিত হতে পারে, আবাসস্থলের পরিবর্তনের কারণেও আসতে পারে, আবার সাময়িকভাবে সীমার বাইরে চলে আসাও সম্ভব।
আইইউসিএনের লাল তালিকায় হলুদগলা চড়ুই ‘ন্যূনতম উদ্বেগজনক’ প্রজাতি, অর্থাৎ বিশ্বে এখনই বিলুপ্তির উচ্চ ঝুঁকিতে নেই। তবে বাংলাদেশে এর স্থায়ী আবাস হয়েছে কি না, নিশ্চিত হতে কাপ্তাই ও আশপাশের পার্বত্য জেলায় সারা বছর পর্যবেক্ষণ এবং বাসা বাঁধা, ডিম পাড়া ও বংশবিস্তার নিয়ে গবেষণা দরকার বলে মনে করেন গবেষকেরা। ইন্দো-হিমালয় ও ইন্দো-বার্মা অঞ্চলের সংযোগস্থলে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণীর বিচরণ বদল বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও তাঁদের মত।
প্রতিবেদনটি করেছেন দ্য ডেইলি স্টারের খেংসাপ্রু মারমা।
ছবি: হলুদগলা চড়ুই, কানওয়ার হ্রদ, ভারত, Vaibhavchou / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার





মন্তব্য
(০)