নেপালে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় বন্যা হয়েছে, আগস্টে রাসুয়া-গিরংয়ে এবং সর্বশেষ ১১ অক্টোবর বুড়িগণ্ডকীতে। প্রথম আলোর পার্থ শঙ্কর সাহাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসিমডের দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস বিভাগের ইন্টারভেনশন ম্যানেজার শাশ্বত সান্যাল বলেছেন, এ বন্যায় বাংলাদেশের সরাসরি কোনো ভৌত ঝুঁকি নেই। বুড়িগণ্ডকী ত্রিশূলীতে, ত্রিশূলী নারায়ণী বা গণ্ডক হয়ে গঙ্গায় মেশে; আগস্টের বড় বন্যাটিও দক্ষিণ নেপালের দেবঘাটে পৌঁছানোর আগেই স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে এসেছিল।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) প্রাথমিকভাবে বলছে, একটি ভূমিধসে উপনদীর পানি আটকে যায়, পরে সেই বাঁধ ভেঙে বন্যা হয়; হিমবাহ বা বরফের যোগসূত্র এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আগস্টের বন্যা শুরু হয়েছিল উঁচু পাহাড়ে শিলা ও বরফধসে। সান্যালের মতে, উষ্ণায়ন হিমবাহ পাতলা করে, পারমাফ্রস্ট গলায়, বরফগলা পানি বাড়ায়; কিন্তু একটি দুর্যোগকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলতে কয়েক দশকের স্যাটেলাইট তথ্য, হিমবাহের উচ্চতা মাপা আর রাডারভিত্তিক পর্যবেক্ষণসহ নানা প্রমাণ লাগে।
১১ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে বাসিন্দারা একে অন্যকে সতর্ক করতে শুরু করেন। অরুঘাট পুলিশ ফাঁড়ি প্রথম সরকারি সতর্কবার্তা দেয় ভোর সাড়ে ৫টায়, বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র (এফএফডি) ও এনডিআরআরএমএ খবর পায় সকাল ৬টার দিকে, গণখুদে বার্তা যায় ৬টা ৪০ মিনিটে। সবচেয়ে কাছের স্বয়ংক্রিয় পানির উচ্চতা মাপার যন্ত্রটি উৎস থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার ভাটিতে, অরুঘাটে। নেপাল সরকারের হিসাবে পুনরুদ্ধারে লাগবে প্রায় ৪৭৪ কোটি মার্কিন ডলার, যার প্রায় ৭৫ শতাংশ অবকাঠামোয়।
আগাম সতর্কতার জন্য সান্যাল কয়েক স্তরের ব্যবস্থার কথা বলেছেন: স্যাটেলাইটে নতুন হিমবাহ হ্রদ, পাহাড়ি ঢালের ধীর সরে যাওয়া ও ভূমিধসের বাঁধ কয়েক সপ্তাহ আগে শনাক্ত করা; ভূকম্পন শনাক্তকরণে বড় ধসের সংকেত কয়েক মিনিটে পাওয়া; উজানে ক্যামেরা, জিওফোন ও তারভিত্তিক সেন্সর বসানো। পানির উচ্চতা হঠাৎ বাড়লে, অস্বাভাবিকভাবে কমলে, এমনকি সেন্সর থেকে তথ্য আসা বন্ধ হলেও সতর্কবার্তা চালু হওয়া উচিত; ১১ অক্টোবর পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে কমতেও দেখা গিয়েছিল। প্রশিক্ষিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক আর মোবাইল টাওয়ার বিকল হলে স্যাটেলাইট ফোন বা বেতারের বিকল্পও দরকার।
বাংলাদেশের জন্য তাঁর পরামর্শ: শুধু ভাটির পানি মাপার যন্ত্রে ভরসা না করে কয়েক স্তরের সতর্কব্যবস্থা, বিপৎসীমা পেরোনোর অপেক্ষা না করে দ্রুত সতর্কবার্তা, স্থানীয় খবর যাচাই করে সরকারি বার্তায় রূপ দেওয়া, নদীতীরের বসতি ও বাঁধের পরিকল্পনায় একাধিক ঝুঁকি বিবেচনা আর উজানের পানিপ্রবাহের তথ্য সময়মতো ভাগাভাগি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) পুরো অঞ্চলের জন্য উদাহরণ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ছবি: Gaurav_Dhwaj_Khadka / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); বুড়িগণ্ডকী নদী
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)