খাদ্যশস্য পরিবহনের ভাড়া নিয়ে ঠিকাদার ও পরিবহনশ্রমিকদের বিরোধে পাঁচ দিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জের নারায়ণগঞ্জ সাইলো খাদ্যগুদাম থেকে সরকারি খাদ্যশস্য পরিবহন বন্ধ রেখেছেন স্থানীয় শ্রমিকেরা। এতে সরকারি খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, জানিয়েছে সমকাল।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঠিকাদারেরা অন্য জায়গা থেকে ভাড়া করা ট্রাক সাইলোতে আনলে বাংলাদেশ আন্তজেলা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও মিনিট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নারায়ণগঞ্জ সাইলো শাখার শ্রমিকেরা গেটে সেগুলো আটকে দেন। পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
শ্রমিক ইউনিয়নের সাইলো শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকে সাইলো থেকে খাদ্যশস্য বিভিন্ন গুদামে যায়। জ্বালানি তেলের দাম ও গাড়ি চালানোর অন্যান্য খরচ বেড়েছে, অথচ ঠিকাদারেরা আগের চেয়ে গাড়িপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা কম দিচ্ছেন; দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা পরিবহনে অংশ নেবেন না।
ঠিকাদারদের ভাষ্য, সরকারি দরপত্রে নির্ধারিত দরের বাইরে বাড়তি ভাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় খাদ্য সরবরাহ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হাই রাজু বলেন, একটি মহল শ্রমিকদের উসকে দিচ্ছে; পাঁচ দিন ধরে চাল-গমসহ জরুরি খাদ্যপণ্য পরিবহন বন্ধ, দ্রুত তদন্ত করে পরিবহন স্বাভাবিক করা দরকার।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই শাহ আলম বলেন, শ্রমিকদের পরিবহন এখনো বন্ধ, তবে ঠিকাদারেরা বাইরে থেকে গাড়ি এনে সরবরাহ চালু রেখেছেন এবং বাইরের গাড়ি এখন বাধা ছাড়াই ঢুকতে পারছে। নারায়ণগঞ্জ সাইলোর সুপারিনটেনডেন্ট রিয়াজুল আলম এ বিষয়ে বক্তব্য দেননি।
ঠিকাদার সমিতির সভাপতির ভাষায়, সাইলো ও খাদ্যগুদাম সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, সেখান থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকলে সরকারি খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে।
ছবি: নারায়ণগঞ্জের স্টিল রাইস সাইলো (৬ অক্টোবর ২০২৬), Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)