রাজধানীর পাইকারি বাজার থেকে খুচরা দোকানে পৌঁছাতেই সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। পরিবহন খরচ, আড়ত ভাড়া আর হাতবদলকে এর কারণ বলছেন ব্যবসায়ীরা, জানিয়েছে ঢাকা পোস্ট।
রাজধানীর সাদেক খান পাইকারি আড়তে মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, রাজশাহী ও পাবনা থেকে সবজি আসে। সেখানে লাউ ১২ থেকে ১৫ টাকা, ফুলকপি ৩২ থেকে ৩৫ টাকা পিস, ঢেঁড়স কেজি ২৫ টাকা; শাকের আঁটি কলমি ৩, লালশাক ৬, পাটশাক ৭, মুলাশাক ১০ আর পুঁইশাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা। পাঁচ কেজির পাল্লায় পেঁপে ৪০, উচ্ছে ১৫০, বরবটি ১৮০, বেগুন ৩০০, কাঁচা মরিচ ৩২০ আর শিম ৫০০ টাকা।
খুচরা বাজারে সেই লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা (আকারভেদে ৬০-৭০), ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০, ফুলকপি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। টমেটো কেজি ১৪০, দেশি গাজর ১০০, চায়না গাজর ১৬০, বেগুন ৮০ থেকে ১২০, আগাম শিম ১২০ থেকে ১৬০, দেশি শসা ১২০, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ আর ধনেপাতা ২০০ টাকা কেজি।
তারানগর বাণিজ্যালয়ের বিক্রেতা মো. আরিফ বলেন, আড়তের কমিশন ও শ্রমিকের মজুরিতে ৩ থেকে ৪ শতাংশ খরচ হয়; খুচরা বিক্রেতারা চাইলে আরও কমে বিক্রি করতে পারেন, কিন্তু তাঁরা ১ হাজার ৫০০ টাকা পুঁজিতে ১০ ঘণ্টায় ১ হাজার টাকা কামাতে চান। আরেক আড়তদারের ভাষায়, কৃষক কম দাম পান ঠিক, তবে পরিবহন ভাড়াও সবজির দামে যোগ হয়; কৃষক থেকে স্থানীয় পাইকার, ঢাকার পাইকার, খুচরা বিক্রেতা হয়ে ক্রেতা, কয়েক হাত বদলে দাম বাড়ে।
বাবুল এন্টারপ্রাইজের এক আড়তদার জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গাড়িভাড়া ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বেড়েছে; বগুড়া থেকে ঢাকায় আগে ১৫ হাজার টাকা লাগত, এখন ১৮ থেকে ১৯ হাজার। সব মিলিয়ে পরিবহন খরচ আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
রায়েরবাজারের খুচরা বিক্রেতা রমজান আলী বলেন, পাঁচ কেজির টমেটো ৫০০ টাকায় কিনে কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বেচছেন; শীতের সবজি এখনো পর্যাপ্ত না আসায় দাম বেশি। পচনশীল বলে অল্প করে কিনে দিনেই বেচতে হয়, বিকেল গড়ালে দাম কমাতে হয়, না বিকোলে লোকসান।
ছবি: Naga Bazar, Rajshahi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ঢাকা পোস্ট




মন্তব্য
(০)