ভারতের নাগপুরের একটি স্টার্টআপ, বর্ষাকৃষি (VarshaKrishi), ক্ষুদ্র কৃষকের নিজের খেতের স্যাটেলাইট ছবি থেকে বিনা খরচে সাপ্তাহিক ফসল পর্যবেক্ষণ দিচ্ছে। ১ নভেম্বর রুরাল ভয়েসে এক লেখায় এর প্রতিষ্ঠাতা তন্ময় সাহারে (Tanmay Sahare) এ কথা জানিয়েছেন। কৃষকের কোনো সেন্সর, ফরম বা নতুন যন্ত্র লাগে না: ফোনে অ্যাপ খুলে স্যাটেলাইট ছবিতে নিজের খেতে একবার ছুঁলেই চলে।
তাঁর বর্ণনায়, কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থাটি ওই খেতের গত ১৮ মাসের স্যাটেলাইট ইতিহাস পড়ে, প্রতিটি ছবিতে মেঘ আছে কি না দেখে, ফসল কতটা সবুজ তা মাপে এবং খেতটিকে তার নিজের অতীত ও আশপাশের খেতের সঙ্গে মেলায়। প্রতিবেশী খেতের চেয়ে পিছিয়ে পড়া সাধারণত গোলমালের প্রথম লক্ষণ। এলাকার বৃষ্টিকে ৩০ বছরের স্বাভাবিকের সঙ্গে মেলানো হয়, যাতে সেচের আগে কৃষক বুঝতে পারেন সপ্তাহটা সত্যিই শুকনো গেছে কি না।
এরপর কৃষক সপ্তাহে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান, মারাঠি, হিন্দি বা ইংরেজিতে, ৩০০ অক্ষরের মধ্যে: স্যাটেলাইট কী দেখেছে, আবহাওয়া কী বলছে আর কী যাচাই করতে হবে, সঙ্গে তথ্যের তারিখ ও উৎস। বর্ষায় মেঘে খেত ঢাকা পড়লে বার্তায় তা স্পষ্ট বলা হয়, আর রাডার ও আবহাওয়ার তথ্য ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ হিসেবে সাহারে নাগপুর জেলার কাটোলের কাছে ৩.২ একরের একটি খেতের কথা লিখেছেন। ২০২৬ সালের ১০ থেকে ২০ মের মধ্যে সেখানে ফসলের সবুজভাব ৩৮ শতাংশ কমে, আশপাশের খেতে কমে ২২ শতাংশ। তাঁর মতে, সাপ্তাহিক বার্তা পেলে কৃষক আল থেকে বদলটা চোখে পড়ার আগেই খেতে নেমে দেখতে পারতেন।
সাধারণ সাপ্তাহিক পর্যবেক্ষণ ভারতের সব কৃষকের জন্য বিনা মূল্যে। কখন সেচ দিতে হবে, কত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে, এমন বিস্তারিত পরামর্শ দেওয়া হয় কেবল সেই ফসলে, যার মডেল একজন কৃষিবিদ যাচাই করেছেন; এর খরচ কৃষক দিতে পারেন, কোনো সরকারি প্রকল্পে ভর্তুকি হতে পারে বা কৃষক উৎপাদক সংগঠন বহন করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারা বীজ, সার, কীটনাশক বা ঋণ বিক্রি করে না। প্রতিটি কৃষক ১৮ মাসের ইতিহাসসহ এক পাতার খামার প্রতিবেদনও পান, যা কৃষি কর্মকর্তা, ব্যাংক বা বিমা কোম্পানির কাছে কাজে লাগতে পারে।
প্রথম ফসল নাগপুরের কমলা, কারণ বিদর্ভের কমলাচাষিদের প্রতিটি সেচ ও স্প্রের সিদ্ধান্তে ঝুঁকি বড়। স্টার্টআপটি জানিয়েছে, কৃষক সংগঠন ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে, ২০২৬-২৭ মৌসুমের নিবন্ধন খোলা। তারা নিজেদের পদ্ধতি ও কাটোলের খেতের এক বছরের তথ্য উন্মুক্ত লাইসেন্সে প্রকাশ করেছে, আর খেতের একটি কম খরচের মাপ দিয়ে সেচ ও রোগের পরামর্শ উন্নত করার এক পদ্ধতির ভারতীয় পেটেন্ট আবেদন ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত হয়েছে।
বর্ষাকৃষি ভারতের শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের স্বীকৃত স্টার্টআপ। সাহারে আইআইটি কানপুরে মহাকাশ প্রকৌশলের ছাত্র এবং প্রতিষ্ঠানটির ৫জি/৬জি সেন্টার অব এক্সিলেন্সের উদ্যোক্তা-ফেলো। সেবা নিয়ে দাবিগুলো প্রতিষ্ঠানের নিজের।
ছবি: Sentinel Hub / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)