বিদ্যুৎ সংযোগ বা ডিজেলের পাম্প ছাড়াই সৌরশক্তিতে পাতকুয়া (ডাগওয়েল) থেকে পানি তুলে সেচ দিচ্ছেন চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার পাহাড়ি এলাকার কৃষকেরা। এতে পানির অভাবে পড়ে থাকা জমি আবার চাষের আওতায় আসছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মীরসরাইয়ে ছয়টি ডাগওয়েল বসিয়েছে, এর চারটি করেরহাট ইউনিয়নে। সৌর প্যানেলের বিদ্যুতে পাম্প চলে, পাম্প পাতকুয়া থেকে পানি তুলে জমিতে দেয়।
পূর্ব অলিনগর এলাকায় আগে পানির অভাবে যে জমি অনাবাদি থাকত, তার প্রায় ২০ একর এখন চাষ হচ্ছে। কৃষক নুর হোসেন মিয়া জানান, শুষ্ক মৌসুমে তাঁর প্রায় পাঁচ বিঘা জমি পতিত থাকত; এখন বীজতলা, বোরো ও আমন ধানের পাশাপাশি বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, লাউ, মরিচ, বেগুন, টমেটো ও আলু চাষেও পানি পাচ্ছেন।
কৃষক মো. ইসরাফিল বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচের খরচ বেড়েছে, অথচ পাতকুয়া থেকে তিনি মাত্র ১০০ টাকায় পানি দিতে পারছেন। আরেক কৃষক আবুল কাশেম জানান, বিদ্যুৎ বা ডিজেল লাগে না বলে প্রয়োজনমতো পানি তোলা যায়।
বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাশ বলেন, মীরসরাইয়ের পাহাড়ি বালিমাটি ও পানির স্তর ডাগওয়েলের উপযোগী। প্রত্যন্ত এলাকার কৃষিকে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করতে এটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ; পাতকুয়াগুলো থেকে ধান, শাকসবজি ও ফলের বাগানে সেচ দেওয়া হচ্ছে।
যেসব পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ নেই, সেখানে পর্যাপ্ত রোদ থাকলেই এ পদ্ধতিতে সেচ সম্ভব। ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমলে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও কার্বন নিঃসরণ দুটোই কমে।
প্রতিবেদন: এগ্রিকেয়ার২৪.কম ডেস্ক।
ছবি: Its.masud / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)