মৌচাকের প্রবেশমুখে রাখা একটি খাদ্য সম্পূরক ব্লুবেরির পরাগায়নে ব্যবহৃত মৌমাছির কলোনি বড় করেছে বলে এক গবেষণায় দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি (ডব্লিউএসইউ) কৃষিপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান H4Bees (এইচফোরবিজ)-এর সঙ্গে গবেষণাটি করেছে, যা এনটোমোলজিক্যাল কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ফার্মস ডটকম ২৯ অক্টোবর এ খবর দিয়েছে।
গুঁড়া এই সম্পূরকের নাম ন্যানো-বি-ফিড; এতে খনিজ ও জৈব যৌগের মিশ্রণ গুঁড়া চিনির সঙ্গে মেশানো, আর গবেষকদের ভাষ্যে সব উপাদানই নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত। এটি মৌচাকের বাইরে রাখা হয়, ফলে মৌচাক না খুলেই মৌমাছি নিজে খেয়ে নেয়। যে কলোনিগুলো এটি পেয়েছে, সেখানে অন্যদের চেয়ে মৌমাছির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।
ব্লুবেরির খামার পোষা মৌমাছির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল, আর কিছু মৌচাষি ব্লুবেরির পরাগায়নের পর অপ্রত্যাশিতভাবে কলোনি হারানোর কথা জানিয়েছেন। ডব্লিউএসইউর ক্ষুদ্র ফল উদ্যানতত্ত্বের অধ্যাপক Lisa DeVetter (লিসা ডেভেটার) বলেন, "ক্ষতিটা কেন হয়, আমরা ঠিক জানি না, কিন্তু ভয়ে কিছু মৌচাষি ব্লুবেরির পরাগায়ন মৌসুম পুরোপুরি এড়িয়ে যাচ্ছেন।" বিজ্ঞানীদের ধারণা, খাবার খুঁজতে গিয়ে মৌমাছি যে বালাইনাশক ও ছত্রাকনাশকের অবশেষের সংস্পর্শে আসে, তা সামলাতে সম্পূরকটি সাহায্য করতে পারে, তবে এ নিয়ে আরও গবেষণা দরকার।
এইচফোরবিজের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ও গবেষণাপত্রের সহলেখক Yuval Eshed (ইউভাল এশেদ) বলেন, "এতে প্রায় এক দশকের মাঠ পরীক্ষা আর গবেষক, চাষি ও মৌচাষিদের সহযোগিতা আছে।" পণ্যটির উন্নয়ন শুরু ইসরায়েলে, যেখানে আপেল, ব্লুবেরি, চেরি, প্লাম, কিউই, কাঠবাদাম এবং পেঁয়াজ, তুলা ও ভেষজের বীজ উৎপাদনে এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্পূরকটি কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে সামনের মৌসুমে মৌমাছি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরও বড় পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে দলটি।
ছবি: Richard Bartz / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)