বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) এ পর্যন্ত ২২টি ফসলের ১৩৯টি উচ্চফলনশীল ও উন্নত বৈশিষ্ট্যের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ৯৬টি জাত এসেছে সরাসরি মিউটেশন ব্রিডিং বা বিকিরণ প্রযুক্তিতে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ১০টি জীবাণুসার ও ৫৭টি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে বলে বাসসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মিউটেশন ব্রিডিংয়ে গামা রশ্মি, এক্স-রশ্মি বা আয়ন বিমের মতো পরমাণু বিকিরণ প্রয়োগ করে উদ্ভিদের জিনে পরিবর্তন আনা হয়, তারপর সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত গুণের গাছ বাছাই করে নতুন জাত তৈরি হয়। বিনার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক শরীফুল হক ভুঁইয়া বাসসকে বলেন, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে দেশের কৃষিতে অনেক পরিবর্তন এনেছে বিনা।
সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে বিনাধান-১৪-এর কথা বলা হয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানের একটি জাত তৈরিতে ৮ থেকে ১২ বছর লাগে; আয়ন বিম প্রযুক্তিতে বিনা মাত্র চার বছরে এই স্বল্পমেয়াদি উচ্চফলনশীল জাতটি তৈরি করেছে। লবণাক্ত ও বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য বিনাধান-১০ ও বিনাধান-২৩-এর মতো জাতে উপকূলের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পতিত জমি চাষের আওতায় এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
জাতগুলোর মধ্যে ধান ২৬টি (আউশ ২, আমন ১৪, বোরো ১০), গম ১টি, তেলফসল ৩৭টি (সরিষা ১২, চিনাবাদাম ১২, সয়াবিন ৭, তিল ৬), ডাল ৪১টি (মসুর ১২, মুগ ১৩, ছোলা ১১, মাষ ৩, খেসারি ২), উদ্যানফসল ২৫টি (টমেটো ১৩, লেবু ৩, পেঁয়াজ ও মরিচ ২টি করে, হলুদ, রসুন, কুল, সফেদা ও কালিজিরা ১টি করে) এবং পাট ৪টি।
বিনার জীবাণুসার এখন ছোলা, মসুর, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুগ, মাষকলাই, বরবটি ও ধৈঞ্চার জন্য তৈরি ও সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, এতে ডাল ও শিমজাতীয় ফসলের ফলন ২০ থেকে ৪৫ শতাংশ এবং সয়াবিনের ফলন ৭৫ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে, আর জমিতে বাড়তি ইউরিয়া লাগে না।
বিনা দেশীয় ফসলের জিনোম সিকোয়েন্সও উন্মোচন করেছে, যাতে খরা, তাপ, রোগ ও পোকা সহনশীল জাত তৈরি সহজ হয়। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত স্বাধীনতা পদক ২০১৯সহ ৩১টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে, এর ২২টি দেশে ও ৯টি বিদেশে।
ছবি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিনার ফলক, Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)