মুন্সীগঞ্জে শীতকালীন আগাম সবজির চারা বিক্রিতে ধস নেমেছে। কৃষি সময়ের মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমায় কৃষকেরা চারা রোপণ করতে পারছেন না, ফলে জেলার প্রায় ২০ কোটি টাকার চারার বাজার থমকে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন-চার দফায় ১৫-২০ কোটি টাকার চারা বেচাকেনা হয় এবং ২৫-৩০ জন উদ্যোক্তা সারা বছর এ ব্যবসা করেন। একটি চারা বিক্রির উপযোগী করতে ২৫-৩০ দিন যত্ন লাগে; রোদে চাটাই দিয়ে ঢাকতে হয়, আর ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ই সবচেয়ে বড় শত্রু—এবার সেই বৃষ্টিই সর্বনাশ করেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
পঞ্চসার ইউনিয়নের ভট্টাচার্যেরবাগ ও কেপিবাগে দেখা যায়, বাঁশের চাটাইয়ের নিচে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চারা বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হচ্ছে; কোথাও চারা বড় হয়ে গাছ হয়ে গেছে, কিন্তু ক্রেতা নেই। চাষি বারেক মিয়া বলেন, ‘আরও যদি বৃষ্টি হয় তাহলে চারা বাঁচাইতে পারমু না। খুব লসে আছি।’ কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ৩০-৩৫ বছর চারা চাষ করছেন, এত কম বেচাকেনা কোনো বছর ছিল না।
মাত্র এক সপ্তাহ আগেও ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন চাষিরা। জাপান, ইতালিসহ ইউরোপ থেকে আমদানি করা কেজিপ্রতি ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার বীজে উচ্চ ফলনশীল চারা উৎপাদন করায় মুন্সীগঞ্জের চারা একটি ব্র্যান্ড; স্বাধীনতার আগে থেকে চলা এই ব্যবসার চারা সাভার, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা ও চাঁদপুরে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, বিদেশি উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজে চারা উৎপাদন করায় এখানকার চারার মান ভালো, দেশের বিভিন্ন জেলার চাষিরা এসে কিনে নিয়ে যান; উচ্চফলনশীল জাতের ব্যবহার বাড়ায় কৃষিতে নতুন দিগন্ত খুলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বৃষ্টি না থামলে দেশের শীতকালীন আগাম সবজির একটি বড় চারার উৎসই এবার ঘাটতিতে পড়বে।
প্রতিবেদন: মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা, কৃষি সময়।
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)