২০২৫ সালের নভেম্বরের শুরুতে ঝিনাইদহের কৃষি বিভাগ জানায়, মালচিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে জেলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ব্লকে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের পাশে ৫২ শতাংশ জমিতে মালচিং ও মাচা পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করেন কৃষক আব্দুর রহিম বাদশা। তার ক্ষেতে দুই হাজারের বেশি ফল ধরে, আর সেই তরমুজ দেখতে আশপাশের অনেক মানুষ ক্ষেতে ভিড় করেন। ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর বিকেলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ টিম ক্ষেতটি পরিদর্শন করে। ফলন ও স্বাদে খুশি হন কৃষক এবং কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। ঝিনাইদহ থেকে জাগো নিউজ ২৪ খবরটি প্রকাশ করে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর; এর আগে ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসও একই ক্ষেতের খবর দিয়েছিল।
ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের পাশে পরীক্ষামূলক আবাদ
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ব্লকে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের পাশের মাঠে তরমুজ চাষ করেন কৃষক আব্দুর রহিম বাদশা। নিজ উদ্যোগে বীজ সংগ্রহ করে তিনি ৫২ শতাংশ জমিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ রোপণ করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ ফলের বীজ রোপণ করা হয়।
এ আবাদে দুটি পদ্ধতি একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। তরমুজ গাছের গোড়ার আর্দ্রতা বজায় রাখতে ব্যবহার করা হয় মালচিং পদ্ধতি, অর্থাৎ গাছের চারপাশের মাটি আবরণে ঢেকে দেওয়া হয়। পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে তৈরি করা হয় মাচা, আর সেই মাচাতেই ঝুলছিল তরতাজা তরমুজ। ৭ নভেম্বরের বাসসের প্রতিবেদনে এই মাচাকে পোকা ও মাকড়ের আক্রমণ থেকে গাছ রক্ষার জন্য তৈরি মাচা বা শেড হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
কৃষক আব্দুর রহিম বাদশা জাগো নিউজকে বলেন, ‘৫২ শতাংশ জমিতে ১১টি মাচা বা শেডে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে এ আবাদ করেছি। ক্ষেতে সবমিলিয়ে ২ হাজারের বেশি ফল ধরেছে। ফলের আকার, রং, স্বাদ ও মান অত্যন্ত ভালো।’
তিনি জানান, একেকটি ফলের ওজন ৩ থেকে ৫ কেজি হতে পারে এবং পরিপক্ব হলে এ তরমুজ অনেক সুস্বাদু হয়। দুই মাসের পরিচর্যায় গাছে ফল ধরেছে, আর এক সপ্তাহ পরে ফল সংগ্রহ করা যাবে বলে তিনি আশা করছিলেন। ব্যতিক্রমী এ আবাদ দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকে উৎসুক মানুষ প্রতিদিনই ক্ষেতে আসছিলেন।
খরচ, বিক্রি ও কৃষকের নিজের হিসাব
কৃষকের হিসাবে, পুরো আবাদে তার খরচ হয় ৪০ হাজার টাকা, আর ফল তোলার আগেই তিনি বাগানের সব ফল ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। তিনি বলেন, ‘গড়ে আড়াই মাসে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে ৭০-৮০ হাজার টাকা লাভ করা যায়।’ বাসসের প্রতিবেদনেও তার মুখে একই হিসাব আসে: ৫২ শতাংশ জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ এবং পুরো ফসল ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি।
খরচ, বিক্রি ও লাভের এসব অঙ্ক কৃষকের নিজের দেওয়া, এক মৌসুমের একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেতের; কোনো প্রতিবেদনেই সরকারি কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। অন্য জাত, অন্য জমি, অন্য মৌসুম বা অন্য বাজারে একই পদ্ধতিতে ফল অনেকটা ভিন্ন হতে পারে। কোন জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি, আর এই ক্ষেতে সার বা কীটনাশকের কোনো মাত্রাও প্রকাশ করা হয়নি। যারা গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করতে চান, তাদের জন্য নিজ ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়াই ভালো; স্থানীয় অবস্থা বুঝে জাত, বপনের সময়, সার ও বালাই দমনের পরামর্শ তারাই দেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের টিমের পরিদর্শন
ব্যতিক্রমী এ তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শন করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ টিম। ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, বিকেল সাড়ে ৪টায় পরিদর্শন টিম তরমুজ ক্ষেতে পৌঁছায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণ’ এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ‘কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জোরদারকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংস্থান অনুযায়ী চলমান কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য টিমটি ক্ষেতে যায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের ফসল অনুবিভাগ, কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মপ্রধান ফেরদৌসী আখতার, উপপ্রধান রত্না শারমীন ঝরা ও সিনিয়র সহকারী প্রধান প্রিয়াংকা দেবী পাল। পরিদর্শন টিমে আরও ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঝিনাইদহ কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নূর এ নবী এবং সদর উপজেলার হলিধানী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন। পরিদর্শন টিমের সদস্যরা গ্রীষ্মকালীন তরমুজের বাম্পার ফলন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নূর এ নবী বলেন, ‘ব্যতিক্রমী গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে জেলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা নিয়মিত কৃষকদের নানা ধরনের লাভজনক চাষে উদ্বুদ্ধ করছি।’
যুগ্মপ্রধান ফেরদৌসী আখতার বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি ফসল হওয়ায় কৃষক গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে আরও আগ্রহী হবেন বলে মনে করি। এ ধরনের চাষে সার্বিক সহযোগিতা দিতে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য।’

মালচিং ফসলের জন্য কী করে
মাটির উপরিভাগে সরাসরি বিছিয়ে দেওয়া যেকোনো উপকরণকেই মালচ বলা হয়। পলিমারস সাময়িকীতে ২০২২ সালে প্রকাশিত মালচ ফিল্ম নিয়ে একটি পর্যালোচনায় এর উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে চারা ও কচি ডগা রক্ষা, পানির বাষ্পীভবন কমানো, আগাছা দমন এবং মাটির ক্ষয় রোধ। পর্যালোচনাটি জানায়, শব্দটি এসেছে জার্মান শব্দ ‘মলশ’ থেকে, যার অর্থ সহজে পচে যায় এমন। খড়, ফসলের অবশিষ্টাংশ, কম্পোস্ট, গাছের ছাল ও করাতের গুঁড়া হলো পুরোনো ধাঁচের জৈব মালচ; প্লাস্টিকের ফিল্ম আধুনিক মালচ।
একই পর্যালোচনায় এ পদ্ধতির ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে। মালচ হিসেবে জৈব পদার্থ ব্যবহারের প্রথম লিখিত প্রমাণ খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দের কাছাকাছি সময়ের। ১৬০০-এর দশকে শুষ্ক অঞ্চলে পাথর, নুড়ি ও আগ্নেয় ছাই ব্যবহার হতো, আর ১৮০০-এর দশকে প্যারিসের বাজারমুখী সবজিচাষিরা স্ট্রবেরি চাষে খড়ের মালচকে উপকারী হিসেবে পান। ১৯২০-এর দশকে কাগজের শিট মালচ হিসেবে আসে, ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে পলিইথিলিন ফিল্মের বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয় এবং ২০০৬ সালে প্রথম পচনশীল প্লাস্টিক মালচ ফিল্ম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। ২০২০ সালে বিশ্বে মালচের বাজার ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার বলে অনুমান করা হয়।
পর্যালোচনায় যেসব সুবিধার কথা আছে, ঝিনাইদহের কৃষকও সেগুলোই চেয়েছিলেন। মালচ মাটির পানি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায় ও পানি গড়িয়ে যাওয়া কমায়, ফলে ফসলের সেচের প্রয়োজন কমানো যায়। আবরণটি সূর্যের আলো আটকে দেয় বলে নিচে আগাছার বীজ কম গজায়, বিশেষ করে ছোট বীজের আগাছা। ভারী বৃষ্টির আঘাত এবং বাতাস ও পানির কারণে মাটির ক্ষয় থেকেও এটি মাটিকে রক্ষা করে, আর মাটির তাপমাত্রা স্থির রাখে: পর্যালোচনায় উদ্ধৃত গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা দিনে মালচ করা মাটি উষ্ণ থাকে এবং গরমের সময় ঠান্ডা থাকে। পর্যালোচনাটি আরও জানায়, মালচ করা ফসলে চাপ কম পড়ে, ফলন ও মান ভালো হতে পারে এবং আগেভাগে ফসল তোলা যেতে পারে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ‘কৃষিতে প্লাস্টিকের মূল্যায়ন ও এর টেকসইতা: পদক্ষেপের আহ্বান’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্লাস্টিক মালচিং ফিল্মের সুবিধা প্রায় একইভাবে বর্ণনা করেছে: আগাছার বৃদ্ধি দমন, মাটির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মাটি থেকে বাষ্পীভবন কমানো এবং ভারী বৃষ্টিতে পুষ্টি উপাদান ধুয়ে যাওয়া কমানো। সংস্থাটির মতে, এসব কারণে ফলন বাড়ে, আবাদের মৌসুম দীর্ঘ হয় এবং সেচ, সার ও আগাছানাশকের প্রয়োজন কমে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্লাস্টিকের গ্রিনহাউস ও মালচিং ফিল্ম ড্রিপ সেচের সঙ্গে ব্যবহার করে ফল ও সবজিচাষিরা ফলন বাড়াতে এবং পানি ও আগাছানাশকের ব্যবহার কমাতে পারেন।
বিদেশে তরমুজ এভাবে সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া ফসলগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার খাদ্য ও কৃষিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের (ইউএফ/আইএফএএস) ২০১৪ সালের আগস্টের একটি সম্প্রসারণ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় তরমুজ প্রধানত প্লাস্টিক মালচে ঢাকা উঁচু বেডে চাষ হয়। নির্দেশিকাটি ব্যাখ্যা করে, পানি-অভেদ্য প্লাস্টিকে মাটি ঢাকলে খোলা মাঠের তুলনায় মাটি থেকে বাষ্পীভবন কমে এবং গাছের প্রস্বেদন বাড়ে।
মাঠে থেকে যাওয়া প্লাস্টিকের সমস্যা
এফএওর একই প্রতিবেদনে এর ক্ষতির দিকও তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির অনুমান, কৃষি উৎপাদনে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টন প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহৃত হয়, আর অপচনশীল মালচিং ফিল্মকে তারা অগ্রাধিকারভিত্তিক পণ্যের তালিকায় রেখেছে; তাদের মূল্যায়নে এর আপেক্ষিক ঝুঁকির মান ৯.৮। প্রচলিত মালচ ফিল্ম তৈরি হয় লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই) বা অন্য নমনীয় পলিমার দিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুল মাপের ফিল্ম বাছাই, ভুলভাবে বিছানো, পরিচর্যা বা তুলে ফেলার কারণে মাটিতে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক থেকে যেতে পারে, আর মাটির উপরিস্তরে মালচিং ফিল্মের অবশিষ্টাংশ জমলে ফলন কমে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
এফএওর মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফিল্মের পুরুত্ব: এটিই ঠিক করে পুরো মৌসুম শিটটি অটুট থাকবে কি না এবং ফসল তোলার পর তা তুলে আনা যাবে কি না। ছিঁড়ে যাওয়া বা মাটি ও গাছের অবশিষ্টাংশে মাখামাখি ফিল্ম পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা কঠিন; ইউরোপে ব্যবহৃত মালচ ফিল্মে দূষক ও প্লাস্টিকের সাধারণ অনুপাত ২:১, যে অবস্থায় পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ লাভজনক থাকে না। প্রতিবেদনে খামারে ব্যবহৃত ফিল্ম পোড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে, কারণ প্লাস্টিক, বিশেষ করে পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) ফিল্ম পোড়ালে বিষাক্ত ডাইঅক্সিন ও ফিউরান নির্গত হয়। পলিমারস পর্যালোচনাও একই কথা বলে: পলিইথিলিন মালচ প্রাকৃতিকভাবে পচে না, ফসল তোলার পর মাঠ থেকে তুলে ফেলতে হয়, আর মাটিতে থেকে যাওয়া টুকরা মাটিদূষণ বাড়ায়।
এফএওর প্রতিবেদনে বিকল্প ও উন্নতির যেসব উপায়ের কথা বলা হয়েছে:
- জৈব উপকরণ বা আচ্ছাদন ফসল দিয়ে মালচিং, যাতে প্লাস্টিকের ব্যবহারই এড়ানো যায়;
- কাগজভিত্তিক উপকরণ বা পচনশীল পলিমারের তৈরি ফিল্ম, তবে বিভিন্ন মাটি ও জলবায়ুতে এসব ফিল্ম কত দ্রুত ভাঙে, তা অনেক ভিন্ন হয়;
- আরও মজবুত, পুরু ও সহজে না ছেঁড়া ফিল্ম, যার চারা লাগানোর ছিদ্র মসৃণভাবে কাটা, যাতে ফসল তোলার পর পুরো শিট তুলে আনা যায়;
- মালচিং ফিল্মে পিভিসি ব্যবহার না করা, যাতে ব্যবহৃত ফিল্ম পোড়ানো হলেও ডাইঅক্সিন না ছড়ায়; এবং
- ফসলের ধরন অনুযায়ী সম্ভব হলে কয়েক মৌসুম ব্যবহারযোগ্য ফিল্ম।

কেন মাচা, আর কেন অমৌসুমে তরমুজ
বাংলাদেশে তরমুজ সাধারণত শুকনো মৌসুমের ফসল। ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর টেকনাফ থেকে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে কৃষি বিভাগের বরাতে বলা হয়, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস তরমুজ চাষের সময়, আর দেশে ভালো ফলনের জন্য ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের প্রথম দিক পর্যন্ত এ ফল চাষ করা হয়। কৃষি বিভাগ জানায়, টেকনাফে জুন-জুলাইয়ে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে তোলা হয়, আবার অক্টোবর-নভেম্বরে শীতকালীন তরমুজের বীজ বপন করা হয়। আগের বছর উপজেলায় ১১৩ একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল, আর ২০২৫ সালে টেকনাফের বাজারে প্রথমবারের মতো হলুদ শাঁসের তরমুজ আসে।
অমৌসুমি তরমুজ বেড়ে ওঠে বর্ষার মধ্যে, যখন ভেজা মাটি আর পোকামাকড়ই প্রধান ঝুঁকি; তাই লতা মাটি থেকে তুলে রাখতে মাচা ব্যবহার করা হয়। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো জানায়, খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলায় মাছের ঘেরের পাড়ে বাঁশ ও দড়ি দিয়ে মাচা তৈরি করা হয়; লতানো গাছ মাচায় বেড়ে ওঠে আর নিচে ঝোলে পরিপক্ব তরমুজ, প্রতিটি নেটের ব্যাগে মোড়ানো। সেখানকার একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এ পদ্ধতিতে কম পরিশ্রমে ভালো ফলন পাওয়া যায়, রোগবালাই ও পোকার উপদ্রব কম থাকে, রোপণের মাত্র ৭০ দিন পর থেকেই বাজারজাত করা যায় এবং সে মৌসুমে ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি প্রায় ৩৫ মেট্রিক টন। কয়রার তিনটি ইউনিয়নে ২২৪ বিঘা মৎস্যঘেরের পাড়ে শতাধিক কৃষক অসময়ে তরমুজ চাষ করেন; সেখানকার এক কৃষক ১৫ জুন দুই বিঘা ঘেরের পাড়ে ‘আস্থা’ জাতের ১ হাজার ৫০০টি তরমুজের বীজ রোপণ করে ৭ থেকে সাড়ে ৭ কেজি ওজনের ফল পাওয়ার কথা জানান।
২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো জানায়, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা বাড়ির পাশে ৫ শতাংশ জমিতে তৃতীয়বারের মতো বর্ষা মৌসুমে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করেন, সঙ্গে কিছু ফুটিও। তার ভাষ্য, এ মৌসুমে পোকার আক্রমণ কম থাকায় কীটনাশকের খরচও কম হয়েছে। বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, অসময়ে তরমুজ চাষ অনেক লাভজনক, কারণ এ সময়ে বাজারে তরমুজের ব্যাপক চাহিদা থাকে, আর ক্ষেতে রোগবালাই কম থাকায় খরচও কম হয়।
২০২৫ সালে অন্য জেলায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজ
২০২৫ সালের শরৎ-হেমন্তে যে কয়েকটি গ্রীষ্মকালীন তরমুজ ক্ষেতের খবর আসে, ঝিনাইদহের ক্ষেতটি তার একটি। ঝিনাইদহের প্রতিবেদনের নয় দিন আগে, ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর জাগো নিউজ চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে জানায়, জামালপুর জেলার এক কৃষক, যিনি দুই দশক ধরে সেখানে বসবাস করছেন, খৈয়াছড়া ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামে ৫০ শতক জমিতে ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে মালচিং ও অর্গানিক পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করেন। তিনি জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তা ও পরামর্শে ৬৫ দিন আগে আবাদ করেছেন, ২৯ অক্টোবর থেকে বাজারজাত শুরু করেছেন এবং প্রায় ৪ টন তরমুজ উৎপাদনের আশা করছেন; জমিতে আড়াই কেজি থেকে সাড়ে ৪ কেজি ওজনের তরমুজ ছিল। এক পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে তিনি দেড় লাখ টাকায় তরমুজ বিক্রি করেন। সেখানে চাষ করা জাতগুলো হলো সূর্যডিম, রসগোল্লা, বিগবাইট, লিয়োনা, জাফরান, সুইটবাইট ও কিং সুপার। পাইকার জানান, প্রতি কেজি তরমুজ ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।
মিরসরাইয়ের ক্ষেতটি ছিল সরকারি প্রদর্শনী। খৈয়াছড়া-মসজিদিয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ওই ব্লকে গ্রীষ্মকালীন তরমুজের ৫টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হয় এবং কৃষি অফিস থেকে সার, বীজ, মালচিং পেপারসহ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, উপজেলায় প্রায় ৮ জন কৃষক বিভিন্ন জাতের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ আবাদ করেছেন এবং লাভজনক হওয়ায় চাষির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
অমৌসুমি তরমুজের সবচেয়ে বড় এলাকা খুলনায়। ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট দ্য ডেইলি স্টার জানায়, সে বছর খুলনার নয়টি উপজেলায় ৬ হাজারের বেশি কৃষক অমৌসুমি তরমুজ চাষ করেন, বেশির ভাগই মাছের ঘেরের উঁচু পাড়ে, আর তাদের সম্মিলিত আয় ১৫০ কোটি টাকা ছাড়াবে বলে আশা করা হয়। পত্রিকাটি ব্যাখ্যা করে, শুকনো গ্রীষ্মে ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠের পানি লবণাক্ত থাকায় সেচ ব্যয়বহুল হয়, ফলে এক বিঘায় উৎপাদন খরচ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় ওঠে; বর্ষায় বৃষ্টির পানি ঘের ভরিয়ে লবণাক্ততা কমিয়ে দেয়, খরচ নেমে আসে বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায়, আর সাধারণত ৩ থেকে ৪ ফুট উঁচু ঘেরের পাড় ভারী বৃষ্টিতেও গাছকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করে।
দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে খুলনায় অমৌসুমি তরমুজের আবাদ ঝিনাইদহের পরীক্ষার আগেই দ্রুত বেড়েছিল:
- ২০২১-২২: ৩১৫ হেক্টর, ৮ হাজার ৮২০ টন;
- ২০২২-২৩: ৩৭৪ হেক্টর, ১০ হাজার ৪৭২ টন;
- ২০২৩-২৪: ৪০০ হেক্টর, ১৩ হাজার ২৮০ টন;
- ২০২৪-২৫: ৯২৯ হেক্টর, ২৯ হাজার ৭২৮ টন;
- ২০২৫-২৬ সালের লক্ষ্য: ৯২০ হেক্টর, সম্ভাব্য উৎপাদন ২৯ হাজার ৪৪০ টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে শুধু দাকোপ উপজেলাতেই অন্তত ৪০টি গ্রামের ৩৫০ জনের বেশি কৃষক ১৬ হেক্টর ঘেরের পাড়ে অমৌসুমি তরমুজ চাষ করেন, আর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হেক্টরপ্রতি ২৮ থেকে ৩০ টন ফলনের আশা করেন।

বাংলাদেশে তরমুজ: উৎপাদন, বীজ ও রোগবালাই
দেশের প্রধান তরমুজ ফসল হয় দক্ষিণাঞ্চলে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরাতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ২৫ দশমিক ৪৭ লাখ টন তরমুজ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে শীর্ষে ছিল পটুয়াখালী, ৯ দশমিক ৬৩ লাখ টন (জাতীয় উৎপাদনের ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ); এরপর খুলনা ৫ দশমিক ৫৯ লাখ টন (২২ শতাংশ), ভোলা ৫ দশমিক ১৩ লাখ টন (২০ দশমিক ২ শতাংশ), নোয়াখালী ১ দশমিক ৬০ লাখ টন (৬ দশমিক ৩ শতাংশ) এবং বরগুনা শূন্য দশমিক ৭৮ লাখ টন (৩ দশমিক ১ শতাংশ); বাকি ৫৯টি জেলা মিলে উৎপাদন করে ২ দশমিক ৭৩ লাখ টন (১০ দশমিক ৭ শতাংশ)। ২০২২-২৩ অর্থবছরে শুধু বরিশাল বিভাগেই ৬৪ হাজার ১৮৩ হেক্টরে তরমুজ চাষ হয়, উৎপাদন হয় ২৭ লাখ ২৪ হাজার টন। অধিদপ্তরের একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, জমি তৈরি থেকে মৌসুম শেষ হতে প্রায় চার মাস লাগে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০২৩ সালের ১৪ মার্চ চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠান ৪ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের ১৩ দশমিক ৩২ টন তরমুজ মালয়েশিয়ায় পাঠালে তরমুজ দেশের রপ্তানি তালিকায় যুক্ত হয়।
তরমুজের বীজের বড় অংশ আমদানি করা হয়। ২০২০ সালের আগস্টে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালীর আঞ্চলিক কেন্দ্রের গবেষকেরা লাল ও হলুদ শাঁসের এমন তরমুজের বীজ উদ্ভাবন করেছেন, যা তুলনামূলক উঁচু জমিতে সারা বছর চাষ করা যাবে। সেখানকার একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৫ সালে গবেষণা শুরু হয়; দেশকে প্রতিবছর চীন, জাপান, থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার তরমুজ বীজ আমদানি করতে হয়; আর নতুন বীজে হেক্টরপ্রতি ৪০ টন তরমুজ উৎপাদন সম্ভব। অনুমোদনের জন্য বীজটি জাতীয় বীজ বোর্ডে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, অনুমোদন পেলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে তা কৃষকের কাছে পৌঁছানোর কথা। বারির মাঠে পোকামাকড় থেকে রক্ষার জন্য ফলগুলো পলিথিনে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল।
আরেকটি বড় বাধা রোগবালাই। ২০২৪ সালে পিএলওএস ওয়ান সাময়িকীতে প্রকাশিত এক মাঠ গবেষণায় সিলেট ও নাটোর জেলার ৪০টি তরমুজ ক্ষেত জরিপ করে ১০টি রোগ পাওয়া যায়: অ্যানথ্রাকনোজ, সারকোস্পোরা পাতার দাগ, ফিউজারিয়াম উইল্ট, গামি স্টেম ব্লাইট, ডাউনি মিলডিউ, ফাইটোফথোরা ফল পচা, ব্যাকটেরিয়াল ফ্রুট ব্লচ, অ্যাঙ্গুলার লিফ স্পট, ইয়েলো ভাইন ও ওয়াটারমেলন মোজাইক। রোগজীবাণু শনাক্ত করা হয় ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সিলেটে সবচেয়ে বেশি ছিল ফিউজারিয়াম উইল্ট, পরীক্ষা করা গাছের ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশে, এরপর গামি স্টেম ব্লাইট ৪১ দশমিক ৫ শতাংশে; নাটোরে শীর্ষে ছিল অ্যাঙ্গুলার লিফ স্পট (৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ) ও ইয়েলো ভাইন (৩৩ শতাংশ)। গবেষকেরা উল্লেখ করেন, ফিউজারিয়াম উইল্ট ও ফাইটোফথোরা ফল পচা তরমুজের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক রোগ; নাটোরের গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামে কৃষকেরা রসুনের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে তরমুজ চাষ করেন, আর সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটে বন্যা এড়াতে আগাম তরমুজ চাষ করে অমৌসুমি পণ্য হিসেবে তুলনামূলক বেশি দাম পান। গবেষণায় কোনো ওষুধের মাত্রা দেওয়া হয়নি; নির্দিষ্ট ক্ষেতে দমন ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নিতে হবে।
তরমুজ গাছের পরিচয় ও উৎপত্তি
তরমুজের বৈজ্ঞানিক নাম Citrullus lanatus; এটি কুমড়া পরিবারের (Cucurbitaceae) ফসল, শসাও এই পরিবারের। ২০২১ সালে প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (পিএনএএস) সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, সুদানের তেতো নয় এমন সাদাটে শাঁসের একটি রূপ, কর্ডোফান মেলন, গৃহপালিত তরমুজের সবচেয়ে নিকট আত্মীয় এবং সম্ভাব্য পূর্বপুরুষ। গবেষণাটিতে মিসরের সমাধির চিত্রকর্মের নতুন ব্যাখ্যা থেকে ইঙ্গিত মেলে, বর্তমান সময় থেকে ৪ হাজার ৩৬০ বছর আগেই নীলনদ উপত্যকায় তরমুজ মিষ্টান্ন হিসেবে খাওয়া হয়ে থাকতে পারে। বুনো সব Citrullus প্রজাতির শাঁস সাদা এবং কিউকারবিটাসিন নামের তেতো যৌগের কারণে কাঁচা খাওয়া যায় না; গবেষণায় দেখা যায়, তেতো স্বাদ হারানোর বৈশিষ্ট্য কর্ডোফান মেলনেই ছিল, কিন্তু লাল শাঁস স্থায়ী হয় কেবল গৃহপালিত তরমুজে, আর গৃহপালনের দীর্ঘ পথে মিষ্টতা ধীরে ধীরে বেড়েছে।
তরমুজের বেশির ভাগই পানি। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের খাদ্য উপাদান তথ্যভান্ডার (এসআর লিগ্যাসি) অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম কাঁচা তরমুজে থাকে ৯১ দশমিক ৪৫ গ্রাম পানি ও ৩০ কিলোক্যালরি শক্তি, সঙ্গে ৭ দশমিক ৫৫ গ্রাম শর্করা, শূন্য দশমিক ৬১ গ্রাম প্রোটিন, শূন্য দশমিক ১৫ গ্রাম চর্বি এবং শূন্য দশমিক ৪ গ্রাম খাদ্য আঁশ। একই পরিমাণে মেলে ৮ দশমিক ১ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১১২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম এবং ৪ হাজার ৫৩২ মাইক্রোগ্রাম লাইকোপিন, যে রঞ্জক শাঁসকে লাল করে। কোনো নির্দিষ্ট খাবার ঘিরে খাদ্যতালিকা সাজাতে চাইলে চিকিৎসক বা যোগ্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ঝিনাইদহ জেলা ও সদর উপজেলা
ঝিনাইদহ খুলনা বিভাগের একটি জেলা, আয়তন ১ হাজার ৯৬৪ দশমিক ৭৭ বর্গকিলোমিটার। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, এর উত্তরে কুষ্টিয়া জেলা, দক্ষিণে যশোর জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে রাজবাড়ী ও মাগুরা জেলা এবং পশ্চিমে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও পশ্চিমবঙ্গ। ব্রিটিশ শাসনের শুরুতে ঝিনাইদহ ছিল একটি পুলিশ ফাঁড়ি; ১৭৯৩ সালে এটি থানা, ১৮৬২ সালে মহকুমা এবং ১৯৮৪ সালে জেলা হয়। ২০১১ সালের জনশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৩০৪ জন, সাক্ষরতার হার ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ। জেলার ৬৭ শতাংশ মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি, আর ব্যবসা ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশের।
জেলার নদীগুলোর মধ্যে আছে গড়াই, কুমার, নবগঙ্গা, চিত্রা, ভৈরব, কপোতাক্ষ, বেতনা ও কালীগঙ্গা, আর বাঁওড়ের মধ্যে বালুহর, মরজাত, সারজাত, মাজদিয়া ও বারফার। ছয়টি উপজেলার মধ্যে ঝিনাইদহ সদর সবচেয়ে বড়, আয়তন ৪৭০ দশমিক ১১ বর্গকিলোমিটার, ২০১১ সালের শুমারিতে জনসংখ্যা ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩২ জন। বাংলাপিডিয়ায় এ উপজেলার প্রধান নদী হিসেবে বেগবতী ও নবগঙ্গা; প্রধান ফসল ধান, পাট, আখ, গম, যব, পান, আলু ও সবজি; প্রধান ফল আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, পেঁপে ও খেজুর; আর প্রধান রপ্তানিপণ্য ধান, পাট, পান, কলা, খেজুরের গুড় ও সবজির উল্লেখ আছে। উপজেলার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। বাংলাপিডিয়ায় উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের তালিকায় হলিধানী একটি। সেই তালিকায় উপজেলার প্রধান ফসল বা প্রধান ফলের মধ্যে তরমুজের নাম নেই।

ছবি: Zeynel Cebeci / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ), বাসস, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), পলিমারস (এমডিপিআই), পিএলওএস ওয়ান, প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস, ইউএফ/আইএফএএস এক্সটেনশন, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফুডডেটা সেন্ট্রাল, বাংলাপিডিয়া





মন্তব্য
(০)