চায়ের জন্য পরিচিত মৌলভীবাজারে দ্রুত বাড়ছে লেবু চাষ। খরচ কম, লাভ বেশি, রোগবালাই কম আর সারা বছর লেবু বেচে নগদ টাকা মেলায় চাষিরা আগ্রহী হচ্ছেন। জেলায় এখন ১,২৪০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়, বছরে উৎপাদন প্রায় ১১,৯২০ টন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাহাড়ি টিলা ও সমতলজুড়ে লেবুর আবাদ বাড়ছে; গত পাঁচ বছরে উপজেলায় বেড়েছে ১০০ হেক্টর। এখানে সিডলেস, চায়না, কাগজি ও জারা জাতের লেবু হয়, এর মধ্যে কাগজি ও সিডলেসের চাহিদা বেশি। চাষিরা প্রতিদিন বাগান থেকে লেবু তুলে স্থানীয় বাজারে বেচেন, অনেক বাগান থেকে পাইকাররা সরাসরি কিনে নেন; জিপ ও ঠেলাগাড়িতে লেবু আসে আড়তে, সেখান থেকে যায় দেশের নানা প্রান্তে।
শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজারের লেবু বিক্রেতা জসিম মিয়া জানান, ভরা মৌসুমে আকারভেদে প্রতি পিস লেবু পাইকারি আড়তে ২-১০ টাকায় বিক্রি হয়, এখন হচ্ছে ১৫-৩৫ টাকায়। আড়তদার আব্দুল মালেক বলেন, শ্রীমঙ্গলের পাইকারি বাজারের লেবুতে স্থানীয় চাহিদা মেটানোই কঠিন, তার ওপর ঢাকাসহ নানা জায়গার পাইকাররা এখান থেকে লেবু কিনে নেন। আড়তে বড় লেবু গড়ে ৩০, মাঝারি ২৫ ও ছোট ১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
হোটেল-রেস্তোরাঁয় লেবুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। শ্রীমঙ্গলের রিজিক রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. ময়নুল ইসলাম সানি বলেন, লেবুর মানে তাঁরা মোটামুটি সন্তুষ্ট, তবে দাম বেশি হলে ক্রেতারা সমস্যায় পড়েন। তাঁর মতে, চাষির কাছ থেকে সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রির ব্যবস্থা হলে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমবে, চাষি ন্যায্য দাম পাবেন, ক্রেতাও কম দামে কিনতে পারবেন।
চাষ বাড়লেও বিদেশে লেবু রপ্তানি এখনো শুরু হয়নি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ফলের মান ধরে রাখা, ঠিকমতো বাছাই ও প্যাকেজিং, সংরক্ষণ ও পরিবহনব্যবস্থার উন্নতি জরুরি, পাশাপাশি বিদেশি বাজারের চাহিদা ও রপ্তানির শর্ত পূরণ করতে হবে। কৃষি কর্মকর্তারা তাই উৎপাদনের সঙ্গে বাজারব্যবস্থা ও রপ্তানির সুযোগ তৈরিতে জোর দিচ্ছেন।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের মৌলভীবাজার সংবাদদাতার।
ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)