পাবনার একটি গোয়ালঘরে অপরিপক্ব কলায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক দিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় হলুদ রং ধরিয়ে বাজারে পাঠানোর কারবার ধরেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রাসায়নিক দেওয়া আনুমানিক ১২ হাজার কলা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে রোববার (১ নভেম্বর) পাবনার মালিগাছা ইউনিয়নের রাখালগাছি এলাকার ওই গোয়ালঘরে অভিযান চালানো হয়। নেতৃত্ব দেন পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান রনি। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই দিনে ঢাকা মহানগরসহ দেশের ২৭ জেলায় নিত্যপণ্যের বাজারে অনিয়ম এবং নকল-ভেজালবিরোধী অভিযানে অধিদপ্তরের ৪০টি তদারকি দল ৭২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল বাড়তি দামে বিক্রি, মূল্যতালিকা না টাঙানো, ওজন ও মাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি এবং নকল-ভেজাল খাদ্য তৈরি ও বাজারজাত করা।
ব্যবসায়ীদের নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিক মজুত ও সরবরাহে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমান জায়গায় হালনাগাদ মূল্যতালিকা টাঙানো, নির্ধারিত দামের বেশি না নেওয়া এবং সঠিক ওজন নিশ্চিত করতেও সতর্ক করা হয়েছে। হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতাও দেখা হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহায়তা করেন।
ভোক্তাদের প্রয়োজনের বেশি পণ্য না কেনার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি), উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ দেখে নেওয়া, ওজন মিলিয়ে নেওয়া এবং বিক্রেতার কাছ থেকে রসিদ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতারণা বা বাড়তি দাম আদায়ের শিকার হলে হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, ন্যায্য দাম ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং নিরাপদ খাদ্য ও ভেজালবিরোধী কাজ জোরদারে দেশজুড়ে এ ধরনের অভিযান চলবে। কলাচাষি ও পাইকারদের জন্য বার্তাটি স্পষ্ট: অপরিপক্ব কলা রাসায়নিকে পাকিয়ে বিক্রি করলে পুরো চালান হারানোর ঝুঁকি আছে। প্রতিবেদনটি বাংলা নিউজ ২৪-এর সিনিয়র করেসপন্ডেন্টের।
ছবি: Masumcity / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)