সন্তান লালন-পালন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত পরামর্শ, নিখুঁত মা হওয়ার প্রত্যাশা এবং পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্যের চাপে মিলেনিয়াল প্রজন্মের মায়েরা মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, জানিয়েছে আজকের পত্রিকা।
যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান মাইন্ড মমি কোচিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা লরা গাকিয়ান বলেন, এই প্রজন্মের নারীদের জন্য মাতৃত্ব সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা। তিন সন্তানের মা গাকিয়ান নিজেও প্রথম সন্তানের জন্মের পর তীব্র মানসিক সংকটে পড়েন এবং তাঁকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
প্রতিবেদনে ২০১৮ সালের একটি গবেষণার কথা বলা হয়েছে, যাতে দেখা যায় নিখুঁত মা হওয়ার সামাজিক প্রত্যাশা অভিভাবকদের মানসিক অবসাদ বাড়ায়। ২০২২ সালের আরেক গবেষণা বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলনা এবং সব দায়িত্ব একা সামলানোর প্রবণতা কর্মক্ষেত্র ও সন্তান প্রতিপালন, দুই ক্ষেত্রেই ক্লান্তি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর খাবার, ঘুমের সময়সূচি ও স্ক্রিন টাইম নিয়ে অসংখ্য পরামর্শ মায়েদের বিভ্রান্ত করছে, অথচ সব শিশুর প্রয়োজন এক নয়। যুক্তরাজ্যের এক মা এলা জানান, ঘুমের রুটিন ঠিক করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরামর্শ মেনে একজন বিশেষজ্ঞকে ৩০০ পাউন্ড দিয়েও তাঁর উদ্বেগ কমেনি।
মাতৃত্বজনিত অপরাধবোধবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বেলিন্ডা ব্যাটের মতে, তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সেসব বাস্তবায়নের দায় এককভাবে মায়েদের ওপর চাপানো হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক সংঘাতের অনিশ্চয়তাও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
পরিস্থিতি বদলাতে গাকিয়ান কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তা, বাবাদের জন্য উন্নত পিতৃত্বকালীন ছুটি, সাশ্রয়ী শিশুযত্ন এবং মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর পরামর্শ, নিখুঁত মা হওয়ার প্রতিযোগিতা ছেড়ে নিজের প্রয়োজন ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ মা ভালো না থাকলে পুরো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা



মন্তব্য
(০)