চট্টগ্রামে এ বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া নারীদের প্রায় ৩৮ শতাংশই ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৫৪১ জন, মারা গেছেন ৪০ জন। তাঁদের ২১ জন নারী, যার আটজন, অর্থাৎ ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ, অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁদের গর্ভের সন্তানও বাঁচানো যায়নি। এর বাইরে কয়েকজন প্রসূতি মায়েরও মৃত্যু হয়েছে।
সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছিল সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে: সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত হন ২ হাজার ৪৩০ জন, অক্টোবরে ২ হাজার ৬০৮ জন। নভেম্বরের প্রথম ছয় দিনেও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬৭ জন, মারা গেছেন তিনজন; শুধু শুক্রবারই ভর্তি হন ৪৬ জন।
সমকালের প্রতিবেদনে কয়েকটি পরিবারের কথা এসেছে। বিয়ের এক বছর না পেরোতেই প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় থাকা ২৬ বছরের অর্পিতা দাশ ডেঙ্গুতে মারা যান, গর্ভের শিশুটিও বাঁচেনি। এক মাস আগে দ্বিতীয় সন্তানের মা হওয়া রাশেদা বেগম রিমি (২৯) ৩ সেপ্টেম্বর জ্বরে পড়েন, পরদিন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়; ৫ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তির পর আইসিইউতে নেওয়া হলেও প্লাটিলেট দ্রুত কমে তাঁর মৃত্যু হয়। ১৭ নভেম্বর দ্বিতীয় সন্তান জন্মের কথা ছিল আনিসা দাশ মলির (৩০); ২০ অক্টোবর জ্বর আসার পাঁচ দিন পর চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি মারা যান।
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মুসলিনা আখতার বলেন, গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে নানা শারীরিক ও হরমোনগত পরিবর্তন হয়, তাই ডেঙ্গু হলে মা ও গর্ভের শিশুর গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত কমে যেতে পারে এবং প্রসবের আগে বা প্রসবের সময় গুরুতর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ডেঙ্গু হলে বিশেষ সতর্কতা ও চিকিৎসা দরকার। প্রকোপের সময় দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, হাসপাতালের শয্যা বা নিবিড় পরিচর্যার ব্যবস্থা বাড়ানো যায়, কিন্তু চলে যাওয়া জীবন ফেরানো যায় না। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়িঘর ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি, এর জন্য দরকার জনসচেতনতা। স্বজনেরাও প্রশ্ন তুলেছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে হয়তো এই মৃত্যুগুলো এড়ানো যেত।
ছবি: James Gathany, CDC / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সমকাল



মন্তব্য
(০)