তিন বছর আগে শিকার বন্ধ করা ভারতের মণিপুরের একটি গ্রাম এখন ক্যামেরা ট্র্যাপের ছবিতে প্রমাণ পাচ্ছে যে তাদের বন ফিরছে। সেই ভিডিওতে আছে বিপন্ন বুনো কুকুর ঢোল, যারা শিরুই গ্রামের সামাজিক বনে বাস করছে। ডাউন টু আর্থে ৩১ অক্টোবর এ খবর দিয়েছেন ওয়ার্নগাচান শাতসাং।
বহু বছর ধরে শিরুইয়ের মানুষ শিরুই কাশং চূড়ার আশপাশের সামাজিক বন রক্ষা করছেন। সেখানেই জন্মায় মণিপুরের রাজ্য ফুল, স্থানীয় প্রজাতির শিরুই লিলি; সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাঁরা নতুন করে লাগিয়েছেনও। তিন বছর আগে সংরক্ষণ ছড়ানো হয় গোটা গ্রামের এলাকায়। শিরুই আজের প্রধান Soyo A Wungsek (সোয়ো এ উংসেক) বলেন, "আমাদের গ্রাম কর্তৃপক্ষ ২০২৪ থেকে ২০২৬, তিন বছর শিরুই এলাকায় সব ধরনের শিকার নিষিদ্ধ করে।" জুম চাষের ফসল বন্যপ্রাণী থেকে বাঁচানোর মতো বিশেষ ক্ষেত্রে শুধু কিছু প্রথাগত ফাঁদ পাতার অনুমতি ছিল।
শুরুতে কোনো নজরদারি বা বৈজ্ঞানিক জরিপ ছিল না, তাই প্রথম দুই বছরে প্রভাবের তেমন প্রমাণ মেলেনি। পরিস্থিতি বদলায় ২০২৫ সালে, যখন শিরুইয়ের বাসিন্দা ও স্থানীয় সংগঠন এনফোগালের সহপ্রতিষ্ঠাতা Patrick Shangh (প্যাট্রিক শাং) যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা আইডিয়া ওয়াইল্ডের অনুদানে পাওয়া ক্যামেরা ট্র্যাপ বসান। জায়গা বাছাইয়ে তিনি সাহায্য নেন সাবেক শিকারি Pamreithing Luireiwo (পামরেইথিং লুইরেইও)-র, প্রাণীর চলার পথ নিয়ে যাঁর জ্ঞান খুব কাজে লেগেছে।
এ পর্যন্ত দুজনে মিলে ১৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী ও ৩২১ প্রজাতির পাখি নথিভুক্ত করেছেন। প্যাট্রিকের মতে, সমাজ পরিচালিত এই বনে বন্যপ্রাণীর এটাই প্রথম পদ্ধতিগত নথি। ছোট এলাকাতেই ধরা পড়েছে বিপন্ন ঢোল, প্রায়-সংকটাপন্ন আসামি বানর, আর ঝুঁকিপূর্ণ ব্লিদের ট্রাগোপান, মণিপুরের রাজ্য পাখি মিসেস হিউমের ফেজান্ট ও এশীয় কালো ভালুক। প্রতিবেদক যেদিন সঙ্গে ছিলেন, কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টির পর ছয়টি ক্যামেরায় তেমন কিছু ছিল না, কিন্তু শেষটিতে মেলে একটি ঢোল আর এক জোড়া ট্রাগোপানের ভিডিও। প্যাট্রিক বলেন, "ভিন্ন ভিন্ন দিনে বারবার দেখা যাওয়া বলছে, ঢোলগুলো শুধু পার হয়ে যাচ্ছে না, এই বনেই থাকছে।"
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় গ্রাম কর্তৃপক্ষ ষাণ্মাসিক সভায় বিষয়টি তোলে এবং আরও তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। উংসেক বলেন, "প্রথম তিন বছরের প্রভাব দেখে গ্রাম পরিষদ সর্বসম্মতভাবে সংরক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"
ছবি: G Devadarshan Sharma / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)