মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার জুন্নার বন বিভাগ দুটি মাদি চিতাবাঘকে ইমিউনোকনট্রাসেপটিভ টিকা দিয়ে আবার বনে ছেড়ে দিয়েছে। প্রাণী না মেরে চিতাবাঘের প্রজনন নিয়ন্ত্রণের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রথম ধাপ এটি, বন কর্মকর্তাদের বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২-এর অধীনে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গবেষণাটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।
ইমিউনোকনট্রাসেপশনে এমন একটি টিকা দেওয়া হয়, যা শরীরে রোগপ্রতিরোধী সাড়া তৈরি করে প্রাণীটিকে সাময়িকভাবে বন্ধ্যা করে। এটি দীর্ঘমেয়াদি কিন্তু স্থায়ী নয়; স্থায়ী বন্ধ্যাকরণের মতো নয়, প্রক্রিয়াটি ফিরিয়ে নেওয়া যায়।
পুনে জেলার ঘন চাষাবাদের, আখপ্রধান তালুকা জুন্নার, আম্বেগাঁও, শিরুর ও খেড়ে মানুষ ও চিতাবাঘের সংঘাত কমানোই এই পরীক্ষার লক্ষ্য। শুধু জুন্নার বন বিভাগেই ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চিতাবাঘের হামলায় ৫৬ জন মারা গেছেন।
রাজ্যের তৎকালীন বনমন্ত্রী সুধীর মুনগান্টিওয়ার (Sudhir Mungantiwar) ২০২৫ সালের আগস্টে চিতাবাঘ বন্ধ্যাকরণের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন; ২০২৬ সালের এপ্রিলে পাঁচটি মাদি চিতাবাঘকে পর্যবেক্ষণের জন্য বাছাই করে বন বিভাগ। জুন্নার বিভাগের মাঠকর্মীরা নিরাপত্তা, প্রাণীর ভয় ও আঘাত যতটা সম্ভব কম রাখা এবং পশুচিকিৎসার ওপর জোর দিয়ে কাজটি করছেন; পশুচিকিৎসার সহায়তা দিচ্ছে বন্যপ্রাণী উদ্ধার সংস্থা রেসকিউ চ্যারিটেবল ট্রাস্ট (RESQ Charitable Trust)। হরমোনের পরিবর্তন ও টিকার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বুঝতে রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করছে মুম্বাইয়ের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ।
জুন্নারের মতো চিতাবাঘের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই পদ্ধতি বাস্তবসম্মত, নিরাপদ ও কার্যকর কি না, তা যাচাই করাই গবেষণার উদ্দেশ্য; পুরো সময় প্রাণীগুলোর ওপর নজর রাখবে বন বিভাগ। ভারতের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনে চিতাবাঘ 'বিপন্ন' তালিকাভুক্ত, বিপন্ন প্রাণী বাণিজ্যের আন্তর্জাতিক সনদ সাইটিসের (CITES) পরিশিষ্ট-১-এও এর নাম আছে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ডাউন টু আর্থের হিমাংশু নিতনাওয়ারে (Himanshu Nitnaware)।
ছবি: Iamjadhao / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)