ভারতের মধ্যপ্রদেশের পশ্চিম বেতুল বন বিভাগের ১৬,৮০০ হেক্টর এলাকায় গত তিন বছরে ২৫ হাজারের বেশি পরিণত সেগুন গাছ মারা গেছে। তদন্তে পোকা বা রোগ নয়, দীর্ঘ খরা ও তাপের চাপকেই কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডাউন টু আর্থে খবরটি দিয়েছেন হিমাংশু নিতনাওয়ারে।
বেতুলের উপ-বন সংরক্ষক ও ওয়ার্কিং প্ল্যান কর্মকর্তা প্রদীপ মিশ্র (Pradeep Mishra) যৌথ বন ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোকে নিয়ে পশ্চিম বেতুল, সাওয়ালিগড়, চিচোলি, তাওয়াড়ি ও মোহদা রেঞ্জে প্রতিটি গাছের জিপিএস অবস্থানসহ জরিপ চালান। দক্ষিণ বেতুলেও কিছু গাছ মরেছে। মিশ্র বলেন, "বড় বড় সেগুন গাছ পুরো শুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, অথচ ঘুণ, উইপোকা বা ছত্রাকের কোনো চিহ্ন নেই।" তাঁর ভাষায়, গত ২০ বছরে এই অঞ্চলে এত বড় পরিসরে সেগুন মরার খবর তাঁদের জানা নেই।
মৃত গাছগুলোর বেশির ভাগের বেড় ৬০-১৫০ সেন্টিমিটার, বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ১২০ বছর বা তারও বেশি। মৃত গাছ সুস্থ গাছের ফাঁকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, বড় ও পুরোনো গাছ বেশি আক্রান্ত, শুকনো জায়গায় মৃত্যুর হার বেশি। দক্ষিণ বেতুলে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রপিক্যাল ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তদন্তে সেগুনের ডাইব্যাক রোগের ছত্রাক ফোমপসিস টেক্টোনিসহ কোনো ছত্রাক বা রোগজীবাণুর সংক্রমণ মেলেনি। তবে বর্ষায় জলাবদ্ধতা আর এপ্রিল-জুনের শুকনো মাস মিলে শিকড়ের ক্ষতি করছে কি না, সে সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
মিশ্রের ধারণা, কারণটি হাইড্রলিক ফেইলিওর বা গাছের পানি পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া। দীর্ঘ খরা ও তাপে শিকড় থেকে পাতায় পানি বহনকারী জাইলেম নালিতে বাতাসের বুদ্বুদ তৈরি হয়ে পানির প্রবাহ আটকে দেয়, আর ক্ষতি বেশি হলে বৃষ্টি ফিরলেও গাছ আর সেরে ওঠে না। স্যাটেলাইটের তথ্যে ২০২২-২৩ সালেই গাছপালা ও আর্দ্রতার চাপের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। মিশ্র জানান, ২০২৬ সালের বর্ষায় বেতুলে স্বাভাবিকের প্রায় ৬৯ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে।
জেলার অর্থনীতিতেও এর প্রভাব আছে। মিশ্রের হিসাবে বেতুল কাঠ আহরণ থেকে বছরে ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করে, আর সেগুন বাণিজ্যিকভাবে পরিণত হতে ২০-২৫ বছর লাগে। ২০১০ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, জলবায়ু বদলালে ভারতের সেগুন চাষের এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে।
এই তথ্য বন বিভাগের পরবর্তী ১০ বছরের ওয়ার্কিং প্ল্যানে কাজে লাগানো হবে। মিশ্র বলেন, "নতুন পরিকল্পনায় বনে এখন আসলে কী ঘটছে, তা থাকতে হবে, দশ বছর আগে কী ছিল তা নয়।"
ছবি: Bernard Gagnon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)