আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ইফপ্রি) ও শক্তি ফাউন্ডেশন ফর ডিসঅ্যাডভান্টেজড উইমেন ঢাকার খাবার বিক্রেতাদের তীব্র গরম সামলাতে একটি ঋণ পণ্য তৈরি করছে। সিজিআইএআরের ওয়েবসাইটে এ কথা লিখেছেন ইফপ্রির গবেষক কেট অ্যাম্বলার (Kate Ambler)।
এই ঋণে বিক্রেতারা ফ্রিজ, কুল বক্স এবং ভ্যান চালানোর ব্যাটারি কিনতে পারবেন। কিস্তি পরিশোধ যুক্ত থাকবে একটি তাপ সূচকের সঙ্গে: গরম নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়ালে ঋণগ্রহীতা কিস্তি পিছিয়ে দিতে পারবেন। উদ্দেশ্য, তাপপ্রবাহের সময় বিক্রেতার ব্যবসা ও আয় রক্ষা করা এবং ঋণদাতার ঝুঁকিও কমানো।
অ্যাম্বলার লিখেছেন, বিক্রেতাদের ব্যবসা ও আর্থিক সেবার চাহিদা বুঝতে তাঁরা ঢাকায় বাজার গবেষণার অংশ হিসেবে তাঁদের কাছে গিয়েছিলেন। সেদিন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অনেক বিক্রেতার ছায়া বলতে একটা ছাতা বা ত্রিপল, কেউ কেউ কোনো সুরক্ষা ছাড়াই সবজিভর্তি ভ্যান ঠেলে রাস্তায় ঘোরেন। পচনশীল খাবার সারা দিন খোলা থাকে, ঠান্ডা বা গরম রাখার উপায় থাকে না, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।
তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, আর্দ্রতাও থাকে বেশি, অথচ গরমজনিত জরুরি অবস্থা সামলানোর ব্যবস্থা সীমিত। অ্যাম্বলারের মতে, বিশ্বে তীব্র গরমের মুখে থাকা সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠীগুলোর একটি ঢাকায়, যার মধ্যে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক। গড় তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় অবস্থা আরও খারাপ হবে।
ইফপ্রির মেহরাব বখতিয়ার ও কার্লি ট্র্যাকটম্যানকে নিয়ে এই প্রকল্প শহরের তীব্র গরম মোকাবিলায় ক্লাইমেটওয়ার্কস ফাউন্ডেশনের অভিযোজন ও সহনশীলতা তহবিলের প্রথম দফার অনুদান পেয়েছে। প্রকল্পটি পরীক্ষা করবে, নমনীয় আর্থিক সেবা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষায় কতটা কাজে আসে।
শহরের খাদ্য সরবরাহের দিক থেকে, বিক্রেতার ভ্যানে ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা মানে সবচেয়ে গরম দিনেও কম পচা সবজি আর ক্রেতার জন্য নিরাপদ খাবার।
ছবি: Steve Evans / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)