চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বন বিভাগের সুফল প্রকল্পের বাগানের ভেতর দিয়ে পাহাড় কেটে বালু পরিবহনের রাস্তা তৈরি ও খালের গতিপথ বদলে বালু তোলার অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে লোহাগাড়া থানার উপপরিদর্শক আজিজুল হাকিম লিটন বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মামলাটি করেন।
স্থানটি পদুয়া ইউনিয়নের জঙ্গল পদুয়া গ্রামের উলুবনিয়া এলাকা। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ ও বন বিভাগের যৌথ অভিযানের খবর পেয়ে জড়িতরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে দুটি পুরোনো শ্যালো মেশিন, একটি লোহার পাম্প ও দুটি সাকশন পাইপের কাটা অংশ জব্দ করা হয়।
এজাহার ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাপোড়া খাল ও পাশের পাহাড় থেকে বালু তুলছিল। পরিবহনের সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জের হাঙর বন বিটে সুফল প্রকল্পে সৃজিত বাগানের ভেতর দিয়ে রাস্তা কাটা হয়।
বন বিভাগ কয়েক দফায় কাঁটাতারের বেড়া, গাছের বেষ্টনী ও এক্সকেভেটরে গর্ত করে রাস্তা বন্ধ করলেও প্রতিবার তা সরিয়ে আবার চালু করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের কিছুদিন পরই একই কাজ শুরু হতো।
এজাহারে বলা হয়েছে, পাহাড়ের নিচের মাটি সরে বড় বড় গর্ত হওয়ায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে বাগানের পাশাপাশি খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ও আশপাশের কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পদুয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আসামিরা বন বিভাগের পাহাড় ও সুফল বাগানের ক্ষতি করে বালু পরিবহন করছিলেন এবং বারবার বাধা দেওয়ার পরও আবার রাস্তা চালু করেছেন।
সুফল প্রকল্প বন বিভাগের উদ্যোগে গড়ে তোলা বাগানের কর্মসূচি। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণের বিষয়।
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪


মন্তব্য
(০)