ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে যাযাবর পশুপালকদের মৌসুমি চলার পথ ৩৪টি জায়গায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ওপর দিয়ে বা খুব কাছ দিয়ে গেছে। নতুন এক গবেষণা বলছে, এসব জায়গায় গৃহপালিত পশু থেকে বিপন্ন বুনো খুরওয়ালা প্রাণীতে খুরারোগ (ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ, এফএমডি) ছড়াতে পারে। তবে সেখানে সংক্রমণ ঘটেছে, এমন প্রমাণ এখনো মেলেনি।
খুরারোগ গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগলের মতো দ্বিখণ্ডিত খুরের প্রাণীর অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, ভারতের গবাদিপশুতে এটি স্থায়ীভাবে আছে। শের-ই-কাশ্মীর কৃষিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মাইক্রোবায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. পারভেজ দার (Pervaiz Dar) বলেন, জাতীয় প্রাণিরোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির গণটিকায় বড় মহামারি কমেছে, কিন্তু গুজ্জর ও বাকারওয়াল পশুপালকদের মৌসুমি যাতায়াত আর টিকা না পাওয়া পশুর কারণে ছোট ছোট প্রাদুর্ভাব থামছে না। তিনি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না।
জম্মু কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলটি জিআইএস বিশ্লেষণ, পশুপালকদের সঙ্গে জরিপ ও পশুচিকিৎসার নথি দিয়ে চারণপথ, চারণভূমি ও সংরক্ষিত এলাকার মানচিত্র তৈরি করে। গবেষণাটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভাইরাস ডিজিজ (Virus Disease) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। সংরক্ষিত এলাকার সীমা থেকে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি, তারপর ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দুটি বাফার অঞ্চল ধরা হয়েছে। ৪৮টি সংরক্ষিত এলাকার ১৫টিতে এই ৩৪টি অঞ্চল; বারামুল্লায় সবচেয়ে বেশি ১১টি, এরপর বান্দিপোরা ৯টি, রাজৌরি ৮টি, গান্দেরবাল ৭টি। বারামুল্লার লাচিপোরা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে সবচেয়ে কাছের পথটি মাত্র ৩৭০ মিটার দূরে।
গবেষণার সংশ্লিষ্ট লেখক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ গবেষণাগারের সহকারী অধ্যাপক বিনীতা শর্মা (Vinita Sharma) বলেন, সংক্রমণের সরাসরি প্রমাণ না মিললেও এই মিলে যাওয়া স্পষ্ট ঝুঁকি দেখায়। পশু আর বন্যপ্রাণী একই চারণভূমি, পানির উৎস ও চলাচলের পথ ব্যবহার করে। হাঙ্গুল, হিমালয়ের কস্তুরী হরিণ, মারখোর ও গোরাল আক্রান্ত হতে পারে, তবে কোন প্রজাতি ঝুঁকিতে তা বলতে মাঠপর্যায়ের নজরদারি লাগবে।
পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নও আছে। ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার সাবেক প্রধান নির্বাহী, প্রতিবেশবিদ রাহুল কৌল (Rahul Kaul) বলেন, আপার দাচিগাম, শোপিয়ানের হিরপোরা বা কিশতওয়ারের মতো অতিরিক্ত চারণের এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকার কথা, যা মাঠ যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে। কাশ্মীরের বন্যপ্রাণী পশুচিকিৎসক ড. মোহসিন আলী গাজী (Mohsin Ali Gazi) জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের নজরদারিতে গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল আছে, বন্যপ্রাণী নেই; এটিকে তিনি বড় ফাঁক বলছেন।
বিশেষজ্ঞরা পশুপালকদের চলাচল বন্ধ না করে তাদের সঙ্গে কাজ করার কথা বলছেন: যাত্রার আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা ও সনদ, পথে ভ্রাম্যমাণ পশুচিকিৎসা শিবির, বন বিভাগের সঙ্গে মিলে চারণের বাফার অঞ্চল, আর মোবাইল ফোনে সন্দেহজনক রোগের খবর দিতে গ্রামের তরুণদের প্রশিক্ষণ। শর্মা ঝুঁকির অঞ্চলে লক্ষ্যভিত্তিক টিকা ও বন্যপ্রাণীর স্বাস্থ্য নজরদারি একসঙ্গে চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। মোঙ্গাবে ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনটি লিখেছেন প্রিয়াঙ্কা শংকর।
ছবি: Javid majeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Mongabay India





মন্তব্য
(০)