দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো প্রদেশের থাবাজিম্বি শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্বে বশফনটেইন খামারে সাভানা জাতের ছাগল প্রথম আনা হয়েছিল ঝোপঝাড়ের বিস্তার ঠেকাতে। ছাগলগুলোর কাজ দেখে অ্যান্টন বারনার্ড (Anton Barnard) ও তাঁর ছেলে ২০২১ সালে নিবন্ধিত প্রজনন খামার গড়েন। বারনার্ড সিনিয়র ফার্মার্স উইকলিকে বলেন, প্রজনন খামার আর সাধারণ খামারের খরচে বড় ফারাক নেই, কিন্তু প্রজননে বিনিয়োগের লাভ অনেক বেশি।
তখন জাতটি মূলত নর্দার্ন কেপে পালন হতো, তাই বুশভেল্ড অঞ্চলে একে প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেখেছিল পরিবারটি। শুরুতে বাছবিচার ছাড়া কেনার ভুল স্বীকার করেন বারনার্ড; পরে নির্দিষ্ট প্রজননকারী ও রক্তধারা বেছে কেনা শুরু করেন। ২০২৫ সালে তাঁরা ২০২৩ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাঁঠাটি কেনেন ৩ লাখ ৪০ হাজার র্যান্ডে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ড দাম।
থাবাজিম্বিতে আঁটুলির প্রকোপ খুব বেশি, আর সেখানে বন্ট আঁটুলি হার্টওয়াটার রোগের ভয়ংকর ওয়েলগেভনডেন ধরন ছড়ায়। তবু আঁটুলিবাহিত রোগে একটি ছাগলও মারা যায়নি বলে জানান বারনার্ডরা। এর কৃতিত্ব তাঁরা দেন সাভানার ঢিলেঢালা নমনীয় চামড়া আর দিনে দুবার পা-ডোবানো ওষুধের চৌবাচ্চাকে। দিনে ছাগলগুলো বনে চরে, রাতে শিয়াল ও ক্যারাকালের ভয়ে খোঁয়াড়ে রাখা হয়।
খামারের লক্ষ্য ১৭০ শতাংশ বা তার বেশি বাচ্চা জন্মের হার; পাঁচ বছরে প্রতিবার গড়ে ১.৭টি বাচ্চা হয়েছে। বাচ্চাকে ১০০ দিনে মায়ের দুধ ছাড়ানো হয়, দৈনিক ওজন বাড়ে ২০০-২৩০ গ্রাম। জন্মের সময় গড় ওজন পাঁঠার ৪.০৮ কেজি, ছাগীর ৩.৭৩ কেজি। ছাগী এক বছর বয়সের আগে পাল দেওয়া হয় না, পাঁঠাও ১২ মাসের আগে প্রজননে নামে না।
প্রতি ১৪ দিনে প্রতিটি ছাগলের ওজন নেওয়া হয়, আর বিশেষ সফটওয়্যারে রাখা এসব তথ্য দিয়ে লজিক্স মেরিট ও প্রজনন সূচক হিসাব করা হয়। প্রতিবেদনটি করেছেন অ্যানেলি কোলম্যান।
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা




মন্তব্য
(০)