কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের রাকিবুল ইসলামের খামারে এখন ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫টি দুম্বা। ২০২৪ সালের শুরুতে এক জোড়া দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই খামার থেকে এরই মধ্যে ছয়টি বড় দুম্বা বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ১২ লাখ টাকা।
৩৬ বছর বয়সী রাকিবুল প্রায় ১০ বছর আগে মহিষ পালন শুরু করেছিলেন। ২০২৩ সালের মার্চে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তাঁর শরীরের বাঁ পাশ অবশ হয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও আগের মতো পরিশ্রম করতে না পারায় মহিষের খামার বন্ধ করে দিতে হয়।
কম পরিশ্রমে আয়ের পথ খুঁজতে গিয়ে পরিচিত একজনের মাধ্যমে নাটোরের একটি দুম্বার খামারের খোঁজ পান তিনি। সেখানে পালন পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা দেখে এসে একটি দুম্বা ও একটি দুম্বী কিনে বাড়িতে খামার শুরু করেন। মহিষ বিক্রির টাকা তখন বাড়ি নির্মাণে খরচ হচ্ছিল, পুঁজি হারানোর ভয়ও ছিল বলে জানান তিনি।
রাকিবুলের হিসাবে একটি বাচ্চা দুম্বার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা, পূর্ণবয়স্কের দাম দুই থেকে তিন লাখ টাকা। দুম্বা বছরে দুবার বাচ্চা দেয় বলে তিনি জানান; এখন খামারের তিনটি দুম্বা শিগগিরই বাচ্চা দেবে।
খাবারের জন্য আলাদা বড় আয়োজন লাগে না বলে জানান রাকিবুল: কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি ও ছোলা দেওয়া যায়, মাঝেমধ্যে ভিটামিন। খামারের পরিচর্যাকারী সুজন হাসান বলেন, সকালে ঘরের খাবার দিয়ে বাইরে ঘাস খেতে ছাড়া হয়, বিকেলে পানি ও সামান্য আনুষঙ্গিক খাবার দিলেই চলে। মাসে দুবার গোসল করানো এবং ঘর পরিষ্কার রাখতে হয়।
মিরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল্লাহিল কাফি বলেন, স্বল্প পরিসরে ঘরোয়া পরিবেশেও দুম্বা পালন করে লাভবান হওয়া সম্ভব, রাকিবুলের খামার তার উদাহরণ। তাঁর মতে, বেকার তরুণেরা বিদেশে যাওয়ার পেছনে অর্থ ব্যয় না করে দেশে এমন খামারে বিনিয়োগ করতে পারেন, তবে এর জন্য সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
ছবি: Man77 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)