রোবট দিয়ে দুধ দোহন, স্বয়ংক্রিয় ফিডার, পোলট্রি ঘরের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও শূকরের ঘরের বায়ু চলাচল প্রযুক্তি খামারকে দক্ষ করেছে, আবার সাইবার অপরাধীদের লক্ষ্যও বানিয়েছে। বায়োইকোনমি ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সেন্টারের (BIO-ISAC, বায়ো-আইস্যাক) উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু রোজ (Andrew Rose) বলেন, যুক্ত প্রতিটি যন্ত্রই হামলার একটি পথ।
অতীতের দুটি ঘটনায় ক্ষতির মাত্রা বোঝা যায়। ২০২১ সালে র্যানসমওয়্যার হামলার পর মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান জেবিএস বিশ্বের ৪৭টি স্থানে কাজ বন্ধ করে দেয়। ২০২৩ সালে সুইজারল্যান্ডের এক দুগ্ধ খামারি গরুর স্বাস্থ্য তথ্য হারান, অপরাধীরা তাঁর ব্যবস্থা আটকে ১০ হাজার ডলার দাবি করে। এতে পেটের বাছুর মারা যায়, গরুটিকেও মেরে ফেলতে হয়।
বায়ো-আইস্যাক যন্ত্র ও সফটওয়্যার সরবরাহকারীদের কাছে তোলার জন্য প্রশ্নের একটি তালিকা দিয়েছে। শুরুতেই মৌলিক প্রশ্ন: ডিফল্ট পাসওয়ার্ড বদলানো যায় কি না, বহুস্তরের পরিচয় যাচাই আছে কি না, আর খামার ও টেকনিশিয়ানদের মধ্যে একই পাসওয়ার্ড চলে কি না।
তথ্যের বিষয়ে জানতে হবে, পশুর জাত, স্বাস্থ্য ও খাদ্যের রেকর্ড কোথায় থাকে, মালিক কে, সেগুলো বিক্রি হয় কি না, মুছে ফেলা যায় কি না। অনেক খামারে ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও শিল্প নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা একই নেটওয়ার্কে চলে, ফলে একটি যন্ত্রে হামলা পুরো খামার অচল করে দিতে পারে। তাই আলাদা নেটওয়ার্কে চালানো যায় কি না এবং ইন্টারনেট না থাকলে যন্ত্র কীভাবে চলে, তা জেনে নেওয়ার পরামর্শ রোজের।
খামারের যন্ত্র প্রায়ই এক থেকে দুই দশক চলে, তাই কত দিন সহায়তা মিলবে ও আপডেট কীভাবে আসবে, তা জানা দরকার। প্রশ্ন তুলতে হবে দায় নিয়েও: যন্ত্রের কারণে পশুর ক্ষতি হলে দায় কার, সরবরাহকারীর সাইবার বিমা আছে কি না, টেকনিশিয়ানের দূরবর্তী প্রবেশের হিসাব রাখা হয় কি না।
তালিকার শেষ অংশ খামারের নিজের প্রস্তুতি নিয়ে: যন্ত্র বিকল হলে হাতে চালানোর ব্যবস্থা আছে কি না, বিদ্যুৎ বা নেটওয়ার্ক গেলেও খাবার, পানি ও বাতাস চালু থাকবে কি না, আর কর্মীরা প্রতারণামূলক ইমেইল চিনতে পারেন কি না।
বায়ো-আইস্যাকের অ্যান্ড্রু রোজ এজিফান্ডনিউজকে এসব কথা বলেছেন।
ছবি: USDAgov / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ



মন্তব্য
(০)