কুয়াকাটার ঝাউবাগান এলাকার জেলে মো. সোহাগ সাগর থেকে জাল তুলে বাড়ি ফিরেছেন ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর এক দিন আগেই। বর্ষার যে তিন মাসে সাগরে মাছ ধরে বছরের সবচেয়ে ভালো আয় হওয়ার কথা, সেই মৌসুম শেষে তাঁর হাতে লাভ নেই, আছে প্রায় তিন লাখ টাকার ঋণ।
তাঁর নৌকায় কাজ করেন পাঁচজন। তাঁদের সংসারের খরচের সঙ্গে জ্বালানি তেল, জাল, দড়ি আর ফ্লোটের বাড়তি দাম মেটাতে গিয়ে দিশেহারা সোহাগ। ‘সারা বছরের যে তিন মাসে আমরা লাভ করি, সেই তিন মাসেই যদি ঋণী হয়ে যাই, তাহলে সামনে চলব কীভাবে?’ বলেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, এভাবে চললে মাছ ধরা ছেড়ে জমি বন্ধক রেখে ঋণ শোধ করতে হবে।
কুয়াকাটা ও আশপাশের শত শত জেলের অবস্থা প্রায় একই। জেলেদের অভিযোগ, সাগরে মাছ কমার পেছনে শুধু প্রকৃতি দায়ী নয়; কাঠের ট্রলিং বোট পোনা আর ছোট মাছসহ সব তুলে নিচ্ছে, মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ছোট জেলেদের জাল আর সরঞ্জাম কেটে দেওয়ার অভিযোগও আছে। এসব অবৈধ ট্রলার বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা চেয়েছেন সোহাগ।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. লোকমান হাকিম বলেন, জেলেরা আগের মতো মাছ পাচ্ছেন না, অথচ তেল, জাল, দড়ি, বরফ সবকিছুর দাম বেড়েছে। অনেক সময় মাছ বেচে নৌকার খরচ আর জেলেদের মজুরিও ওঠে না। ঋণ করে সাগরে যাওয়া জেলেরা মাছ না পেলে সেই ঋণ শোধ করতে পারেন না, তার ওপর নিষেধাজ্ঞা তাঁদের দুর্ভোগ আরও বাড়ায়।
ইলিশের প্রজনন রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দরকার বলে মানছেন জেলেরাও; সোহাগ জানান, তাঁরা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবেন। তবে বছরের ৫৮ দিনের সাগর-অবরোধ নিয়ে জেলেদের দীর্ঘদিনের আপত্তি রয়েছে, সেটি বন্ধের দাবি তাঁর।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ। উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ মিলে নজরদারি চালাবে; ৬ অক্টোবর থেকে কলাপাড়া, আলীপুর, মহিপুর, আশাখালী, দুলাসার, চাপলী ও কুয়াকাটায় মাইকিং চলছে। কলাপাড়ার নিবন্ধিত ১৮ হাজার ৩৬৪ জন জেলের জন্য ৪৫৯ দশমিক ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে, প্রত্যেকে পাবেন ২৫ কেজি।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন জাগো নিউজের কুয়াকাটা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান মিরাজ।
ছবি: Mahmud29 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)