দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২৫-২৬ সালের শীত ও বসন্ত মৌসুমে মুরগি ও হাঁসের খামারে অতি সংক্রামক বার্ড ফ্লুর (এইচপিএআই) ৫৮টি ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে, আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ডিমপাড়া মুরগির খামারে। প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ লেয়ার মুরগি, অর্থাৎ দেশের মোট লেয়ারের ১৩.৬ শতাংশ, মেরে ফেলতে হয়েছে। দেশটির পোলট্রি খাত নিয়ে মার্কিন কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবার (এফএএস) প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
মুরগির মাংস শিল্পের ভিত্তি ব্রয়লার প্যারেন্ট স্টক বা প্রজনন মুরগির ক্ষতি প্রথম হিসাবের চেয়ে বেশি দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৪ লাখ, অর্থাৎ মোটের প্রায় ৫ শতাংশ প্যারেন্ট মুরগি মেরে ফেলায় শিল্পে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রাপ্তবয়স্ক প্যারেন্ট মুরগি কমে যাওয়ায় বাচ্চা তোলা কঠিন হয়ে পড়ে, আর গ্রীষ্মের চাহিদার মৌসুমে ব্রয়লারের সরবরাহ অস্থির থাকে।
ক্ষতি পোষাতে আগস্ট পর্যন্ত দুই চালানে বেলজিয়াম ও স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলো থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ বাচ্চা ফোটানোর ডিম আমদানি করা হয়েছে, আর দেশের পোলট্রি কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতা করে প্যারেন্ট স্টক নতুন করে গড়ছে।
লেয়ারের ঘাটতিতে দৈনিক ডিম উৎপাদন অনেক কমে যায় এবং খাওয়ার ডিমের দাম বেড়ে যায়, যার প্রভাবে অন্যান্য প্রাণিজ পণ্যের দামও বাড়ে। দাম স্থিতিশীল রাখতে দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও গ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২০ কোটি খাওয়ার ডিম আমদানির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
মোট সংখ্যা অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে দেশটিতে মোট মুরগি ১.২ শতাংশ বেড়ে ২০ কোটি ১০ লাখে দাঁড়িয়েছে, মূলত ব্রয়লার বাড়ায়, যা ১ শতাংশ বেড়ে ১১ কোটি ১০ লাখ হয়েছে। মোট মুরগির ৫৫.১ শতাংশ ব্রয়লার (স্যামগে ও দেশি মুরগিসহ), ৩৯.২ শতাংশ লেয়ার (৭ কোটি ৯০ লাখ) আর ৫.৭ শতাংশ প্যারেন্ট স্টক (১ কোটি ১০ লাখ)।
প্রতিবেদনটির সারসংক্ষেপ করেছেন দ্য পোলট্রি সাইটের মেলানি এপ।
ছবি: Mercy For Animals / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: The Poultry Site





মন্তব্য
(০)