চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পাগলা নদীর মুখে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) স্লুইচ গেট বন্ধ থাকায় খিরির বিল এলাকার অন্তত ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার বিঘা দুই ফসলি জমি পানির নিচে। পানির সঙ্গে কচুরিপানার উপদ্রব, আর সময়মতো পানি না নামায় সরিষাসহ রবি শস্যের আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় প্রায় চার হাজার কৃষক, জানিয়েছে একাত্তর টিভি।
স্থানীয়রা জানান, শিবগঞ্জের বিলভাতিয়ার ১৬ হাজার বিঘা, ভোলাহাটের আমগাছির ১০ হাজার বিঘা এবং দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৯ হাজার বিঘা নিয়ে খিরির বিল। নিচু এলাকা বলে বর্ষার পর জমি দীর্ঘদিন জলমগ্ন থাকে। নিয়ম অনুযায়ী অক্টোবর বা নভেম্বরের শুরুতে কানসাট শহরের অদূরে পাগলা নদীর মুখের গেটটি খুলে দিলে পানি নেমে প্রায় ৯৫ ভাগ জমিতে সরিষাসহ নানা ফসল ফলানো যায়।
কৃষকদের দাবির মুখে তিন দিন আগে গেটটি খোলা হলেও এক ঘণ্টার মধ্যেই আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। দাইপুকুরিয়ার ৬০ বছরের কৃষক মো. তাজামুল হক বলেন, তাঁর ছয় বিঘা জমিতে পানি জমে থাকায় কোনো মৌসুমি ফসল বুনতে পারছেন না। কৃষক মাসিকুল ইসলামের ৬০ বিঘার ৩৫ বিঘাই এই বিলে, পানি আর কচুরিপানায় ভরা জমি নিয়ে সারা বছরের সংসার চালানোর দুশ্চিন্তায় তিনি। মনিরুল ইসলাম ও আল আমিনসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের প্রভাবে গেটটি খোলা রাখা হচ্ছে না।
শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, খিরির বিলের জলাবদ্ধতার বিষয়টি তাঁরা জানেন; সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রকৃত কারণ খুঁজে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, কানসাট স্লুইচ গেট নিয়ন্ত্রণে পাউবোর একজন প্রকৌশলী, ইউএনও, জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের নিয়ে একটি কমিটি আছে। কমিটির সিদ্ধান্তে সম্প্রতি গেট খোলা হলেও সন্ধ্যায় কিছু ব্যক্তির অনুরোধে আবার বন্ধ করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে কমিটির সঙ্গে বসে কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত গেট খোলার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনটি একাত্তর টিভির চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধির।
ছবি: Hopeoflight / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: একাত্তর টিভি





মন্তব্য
(০)