রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর আর নৌপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ইউক্রেনের লাখ লাখ টন শস্যের রপ্তানি অনিশ্চিত, সংরক্ষণাগারের অভাবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে হামলা ও নৌ চলাচলে বিঘ্নে জ্বালানি, সার ও খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। দ্য ন্যাশনালের প্রতিবেদন ধরে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, দুই সংকটে ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
অ্যামব্রে অ্যানালিটিকসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে দুই পক্ষ ৩১৭টি বাণিজ্যিক ও অন্যান্য জাহাজে হামলা চালিয়েছে, আগের ছয় মাসে যা ছিল ৭৪টি। ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটির শস্য রপ্তানি আগের মৌসুমের একই সময়ের চেয়ে ২৯ শতাংশ কম। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইউক্রেন ৩ কোটি ৭৫ লাখ টন শস্য ও ডালজাতীয় পণ্য রপ্তানি করেছিল, যার বড় বাজার মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক জ্যঁ-মার্তিন বাউয়ার বলেন, বিশ্বের গম বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল। কৃষ্ণসাগরের অস্থিরতায় ইউক্রেনের কৃষকেরা শস্য বেচতে পারছেন না, গুদামে মজুত জমছে, দামও পড়ছে। তাঁর ভাষায়, কৃষ্ণসাগর শস্য রপ্তানির আর হরমুজ তেল ও সার সরবরাহের পথ, দুটিতে বিঘ্ন মানে উৎপাদন, পরিবহন আর কেনার খরচ সবই বাড়া।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত লুসি বার্জার সতর্ক করেছেন, নভেম্বরের মধ্যে ইউক্রেনের ৯০ লাখ টনের বেশি শস্য, তৈলবীজ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রাখার জায়গা না-ও মিলতে পারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে সেপ্টেম্বরে বিশ্ববাজারে গমের দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সবচেয়ে বড় গম আমদানিকারক মিসর তুলনামূলক সস্তা গমের জন্য কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল; এফএও বলছে, ২০২৬ সালে দেশে প্রায় এক কোটি টন গম হলেও ২০২৬-২৭ মৌসুমে মিসরকে আরও ১ কোটি ৩৫ লাখ টন গম ও ১ কোটি ৫৫ লাখ টন ভুট্টা আমদানি করতে হতে পারে। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর হিসাবে ইয়েমেনের সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ৪৭ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায়, লেবাননে এক মাসে সবজির দাম ২০ শতাংশের বেশি ও রুটির দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে, গাজায় ১৪ লাখের বেশি মানুষ খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে।
এফএও সতর্ক করেছে, হরমুজ দিয়ে সার সরবরাহ ব্যাহত হলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ও ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদন কমতে পারে, বিশেষ করে আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের আমদানিনির্ভর দেশে। বাউয়ার বলেন, বিশ্বে খাদ্যের সামগ্রিক ঘাটতি নেই, সমস্যা হলো যাদের দরকার তাদের কাছে সাশ্রয়ী দামে খাদ্য পৌঁছানো যাচ্ছে না।
ছবি: National Police of Ukraine / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)