কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চাষিরা তামাক ছেড়ে পেঁপে চাষে লাভের মুখ দেখছেন, জানিয়েছে বাসসের এক বিশেষ প্রতিবেদন। যশোর অঞ্চল টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রণোদনায় তামাকের জমিতে এখন পেঁপে, আদা, ক্যাপসিকাম, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, তরমুজ ও ড্রাগনের মতো উচ্চমূল্যের ফসল হচ্ছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে এসব ফসলে বিঘাপ্রতি আয় তামাকের চেয়ে অন্তত চার গুণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে কুষ্টিয়ার ছয় উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর তিন ফসলি জমিতে তামাক হয়, এতে প্রায় ২ লাখ টন খাদ্যশস্যের উৎপাদন ব্যাহত হয়। বিএটিসহ ছয়টি তামাক কোম্পানি জেলার প্রায় ২৫ হাজার চাষিকে নগদ লাভের প্রলোভনে তামাক চাষে আটকে রেখেছে। সরকার তামাকপ্রবণ এলাকায় কৃষিঋণ ও মোবাইল সেচের সুবিধা দিয়ে বিকল্প ফসলে উৎসাহ দিচ্ছে।
মশান গ্রামের চাষি জামিরুল ইসলাম বাসসকে জানান, ছয় মাস পরিবারের সবাই মিলে খেটে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচে যে তামাক হতো, তা বেচে মিলত ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা; রাত জেগে তামাক পোড়াতে হতো, ছেলেমেয়েদের পড়া বাদ দিয়ে কাজ করতে হতো, আর তামাকের ধোঁয়ায় রোগবালাই লেগেই থাকত। কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ নিয়ে গত জানুয়ারিতে তিনি এক বিঘায় প্রায় সাড়ে ৪০০ পেঁপের চারা লাগান, খরচ হয় ৬০ হাজার টাকা। ১ নভেম্বর প্রথম চালানেই কেজি ১৫ টাকা দরে ১ লাখ ৭ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন, ব্যাপারীরা বাগান থেকেই নিয়ে যান।
বলিদাপাড়া গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম ২৫ কাঠায় পেঁপে করেছেন। তিনি বলেন, ক্ষতিকর জেনেও একসঙ্গে নগদ টাকার জন্য চাষিরা তামাকে আটকে থাকেন; গত বছর পর্যন্ত তিনিও তামাক করেছেন, যাতে একবারই টাকা মেলে। এখন তাঁর পেঁপে বিক্রি চলবে দুই বছর পর্যন্ত, আর তাতে তামাকের চার গুণ আয়ের আশা করছেন। কুষ্টিয়া শহরের নিশান মোড়ের সবজি বিক্রেতা নিত্যরঞ্জন জানান, তাঁর দোকানেই দিনে প্রায় এক মণ পেঁপে বিক্রি হয়, কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।
মিরপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুল ইসলাম বলেন, পেঁপের সাফল্য দেখে অন্য তামাকচাষিরাও আগ্রহী হচ্ছেন; প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও পরামর্শ দিয়ে উচ্চমূল্যের ফসলে আগ্রহী করে তোলার মাধ্যমেই চাষিদের তামাক থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব। প্রকল্প পরিচালক রবিউল ইসলাম জানান, আধুনিক প্রযুক্তি, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষিকে লাভজনক ও বাণিজ্যিক করতে যশোর অঞ্চলে প্রকল্পটি কাজ করছে।
ছবি: মোঃ সাকিবুল হাসান / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)