শীত শুরু হতেই দিনাজপুরে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু হয়েছে। নবাবগঞ্জ ও ফুলবাড়ীসহ জেলার ১৩ উপজেলায় গাছিরা এখন রস তোলা আর গুড় তৈরিতে ব্যস্ত। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও শীতের এই কয়েক মাস তাঁদের মূল মৌসুম।
কুয়াশাঢাকা ভোরে সূর্য ওঠার আগেই গাছিরা গাছে ঝোলানো রসভরা মাটির হাঁড়ি নামান। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি খেজুর গাছে এখন হাঁড়ি ঝুলছে। মাটির বড় চুলায় টিনের কড়াই বসিয়ে রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুড়, পাটালি ও লালি, আর নতুন গুড় চলে যাচ্ছে বাজারে।
নবাবগঞ্জের দাউদপুর এলাকায় গুড় তৈরি করছেন রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার ছয়জন গাছি। তাঁদের একজন হযরত আলী জানান, পাঁচ বছর ধরে তাঁরা শীত মৌসুমে এখানে আসেন এবং স্থানীয় গাছমালিকদের কাছ থেকে চুক্তিতে গাছ নেন। এবার তাঁরা ২৩২টি খেজুর গাছ থেকে প্রতিদিন সকালে রস সংগ্রহ করছেন।
দলের আরেক সদস্য, বাঘমারার মনোহরপুর গ্রামের জাকির হোসেন (৪২) জানান, বছরের চার থেকে পাঁচ মাস তাঁরা বিভিন্ন জেলায় ঘুরে এই কাজ করেন, বাকি সময় এলাকায় অন্য কাজ। শুরুতে প্রতিটি গাছ থেকে দিনে দুই থেকে আড়াই কেজি রস মেলে, পরে তা বেড়ে তিন থেকে চার কেজি হয়।
হিসাবটাও দিয়েছেন জাকির হোসেন: মৌসুমের শুরুতে দিনে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ কেজি গুড় হয়, পরে তা বেড়ে এক থেকে দুই মণে দাঁড়ায়। প্রতি কেজি খেজুরের গুড় পাইকারদের কাছে ২৩৫ টাকা এবং খুচরায় ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নবাবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার বলেন, তিনি গাছিদের গুড় তৈরির কাজ পরিদর্শন করেছেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে গুড় তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। গাছিরা সেভাবেই গুড় তৈরি করছেন বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদন: ফারুক হোসেন, দিনাজপুর, ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা।
ছবি: Azaman666 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন




মন্তব্য
(০)