আমের মৌসুম শেষ হয়েছে অনেক আগে, কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের রহনপুর পৌর এলাকার খয়রাবাদে নভেম্বরেও গাছে ঝুলছে থোকা থোকা আম। কোনো গাছে কাটিমন, কোনো গাছে কল্যাণভোগ, আবার কিছু আমের জাতের নাম এখনো জানেন না বাগানের মালিক রবিউল ইসলাম রবি।
প্রায় তিন দশক গাছ, চারা, সায়ন ও আমের জাত নিয়ে কাজ করে তিনি গড়েছেন ১২ বিঘার বাগান। সেখানে আছে কাটিমন, ক্ষীরশাপাতি, গৌড়মতি, ইলামতি, স্যান্ডি, চিয়াইমাই, রেড পালমার, কিং অব চাপাতি, হানিবিউ, বারি-৭, আম্রপালি, বারি-৪ ও কল্যাণভোগ। প্রায় ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন বাগানে।
সায়ন হলো ভালো জাতের সেই ডাল, যা রুটস্টকের সঙ্গে জোড়া দেওয়া হয়। কল্যাণভোগের সায়ন বিক্রি করে ২০২৪ সালে রবির আয় হয় ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা, ২০২৫ সালে প্রায় ২ লাখ টাকা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয় হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।
১৯৯৭ সালে এসএসসি পাসের পর ছাত্রজীবনেই নার্সারির ব্যবসা শুরু করেন রবি। ২০১৮ সালে দেড় বিঘা জমি লিজ নিয়ে কল্যাণভোগের সায়ন করেন, পরে একে একে অন্য জাতও গ্রাফটিং করতে থাকেন। কোনো জাতের ফলন ভালো হলে সংখ্যা বাড়িয়েছেন, সন্দেহ থাকলে কয়েকটি গাছ লাগিয়ে ফলনের অপেক্ষা করেছেন।
তিনি বলেন, দেশ-বিদেশ থেকে নতুন জাতের সায়ন এনে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করছেন, কয়েকটি জাত নিয়ে এখনো কাজ চলছে। তাঁর লক্ষ্য, কোন জাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়ায় ভালো করে তা খুঁজে বের করা এবং দেশের মানুষ যাতে সারা বছর কম দামে আম খেতে পারেন।
প্রতিবেদক: আব্দুল বাশির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আজকের পত্রিকা।
ছবি: Mahmudul Karim Farsad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা



মন্তব্য
(০)