যশোরের কেশবপুরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির শত শত ভাতাভোগী আঙুলের ছাপ না মেলায় টাকা তুলতে পারছেন না। মাইক্রো মার্চেন্ট পয়েন্টে (ডিজিটাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সেবা কেন্দ্র) ফিরে আসার পর তাঁরা ও তাঁদের পরিবার এখন ব্যাংক, ইউনিয়ন পরিষদ আর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে ঘুরছেন।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসের হিসাবে কেশবপুরে বয়স্ক ভাতাভোগী ১৫ হাজার ৯৭৯ জন। তাঁরা মাসে ৭০০ টাকা করে তিন মাস পর একসঙ্গে দুই হাজার ১০০ টাকা পান। এ ছাড়া বিধবা ভাতা পান আট হাজার ৬৫৫ জন, প্রতিবন্ধী ভাতা ছয় হাজার ৯৩১ জন, অনগ্রসর বিশেষ ভাতা ৩৩৫ জন এবং হিজড়া ভাতা তিনজন।
মজিদপুর গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আকাম আলী সরদার ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পান। এনআইডিতে তাঁর বয়স ৭০ হলেও প্রকৃত বয়স প্রায় ৯০। আঙুলের ছাপের জটিলতায় চলতি বছরের শেষ চার মাসের টাকা তুলতে পারেননি তিনি। ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বাবাকে নিয়ে এজেন্ট পয়েন্ট, ইউনিয়ন পরিষদ ঘুরে উপজেলা অফিসে গিয়েও সমাধান পাননি। একই গ্রামের ৮৮ বছর বয়সী খোদেজা বিবি বলেন, আগে ভাতার টাকায় ওষুধ কিনতেন, এখন তা-ও পারছেন না।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং ব্যাংক ও ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মজিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির পলাশ বলেন, যাঁদের ছাপ মিলছে না তাঁদের নমিনি বা নিকটজনের আঙুলের ছাপে হিসাব সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কেশবপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংক এশিয়ার রিলেশনশিপ অফিসার প্রসেনজিৎ ঘোষ জানান, যেসব পরিবারে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে একাধিক ভাতাভোগীর হিসাব খোলা হয়েছে, সেখানেই জটিলতা বেশি। প্রত্যেক ভাতাভোগী আলাদা মোবাইল নম্বর নিয়ে সশরীরে ব্যাংকে এলে হিসাব ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মজিদপুরের আব্দুল করিম, আরতী রানী দাস, পৌরসভার সাবদিয়া ওয়ার্ডের ছবিরুন নেছা, শরিফুন নেছাসহ উপজেলার শত শত ভাতাভোগী একই সমস্যায় পড়েছেন। ব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী, যাঁদের হিসাব অন্যের মোবাইল নম্বরে খোলা, তাঁরা নিজের নম্বর নিয়ে সশরীরে ব্যাংকে গেলে সমাধান মিলছে। প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন সমকালের কেশবপুর প্রতিনিধি।
ছবি: Mattes / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)