ভারতের এইচডিএফসি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি পরিবর্তনের (Parivartan) সহায়তা পাওয়া কাশ্মীরের কৃষক উৎপাদক সংগঠনগুলো (এফপিও) মিলে বছরে ৫.২ কোটি রুপি পর্যন্ত আয় করছে, এর মধ্যে একটির আয় ১.৪ কোটি রুপি। খবরটি দিয়েছে রুরাল ভয়েস।
আইএসএপি ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন ও সিটিজেনস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে মিলে চলা এ কাজের মধ্যে আছে পাম্পোরে (Pampore) জাফরান চাষ, আপেল ও আখরোট প্রক্রিয়াজাত, এবং উরিতে (Uri) কাশ্মীরি লাল মরিচ চাষ। অংশ নেওয়া সংগঠনগুলো সামারকাশ (SAMARKASH) নামে একটি অভিন্ন ব্র্যান্ডে প্রক্রিয়াজাত পণ্য বিক্রি করে; ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং ও ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা পায়।
জাফরান, আপেল, আখরোট ও লাল মরিচ কাশ্মীরের গ্রামীণ অর্থনীতির বড় ভরসা। কিন্তু কম ফলন, জলবায়ুর অনিশ্চয়তা, ফসল তোলার পরের ক্ষতি আর সংগঠিত বাজারে প্রবেশের সুযোগ কম থাকায় চাষিরা ভালো দাম পান না। পাম্পোরের জাফরানচাষিরা পেয়েছেন সৌরচালিত পানির পাম্প, সৌর ড্রায়ার, উন্নত চাষের পরামর্শ, সংগঠন গড়ার সহায়তা ও বাজার সংযোগ। সীমান্তবর্তী উরিতে মরিচচাষিদের দেওয়া হয়েছে পলিহাউস, ড্রিপ সেচ ও সৌরশক্তিতে শুকানোর ব্যবস্থা। বিশেষ করে জাফরানে মালচিংও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
আপেল, আখরোট, জাফরান, কাশ্মীরি লাল মরিচ, দুধ ও ঐতিহ্যবাহী বেকারি পণ্যের জন্য প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র গড়া হয়েছে। সেখানে সৌর ড্রায়ার, হিমাগার ও অন্যান্য যন্ত্রে বাছাই, গ্রেডিং, সংরক্ষণ ও মূল্য সংযোজন হয়, ফলে সংগঠনগুলো কাঁচা ফসলের বদলে বাজারে বিক্রির উপযোগী পণ্য নিয়ে যেতে পারে।
কিরমানিয়া ফ্রুট ফেড এফপিসির সভাপতি বশির আহমদ গনি (Bashir Ahmad Ganie) বলেন, প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র আর সামারকাশ ব্র্যান্ডের কারণে কৃষকেরা ফসল তোলার পরপরই কাঁচা অবস্থায় বেচে না দিয়ে নিজেদের শর্তে প্রক্রিয়াজাত, প্যাকেট ও বিক্রি করতে পারছেন। এইচডিএফসি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা বিভাগের প্রধান নুসরাত পাঠান (Nusrat Pathan) জানান, চাষের পদ্ধতি উন্নত করা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শক্তিশালী করা ও বাজার সংযোগ বাড়ানোই কর্মসূচির লক্ষ্য।
কৃষির বাইরে নারীদের দক্ষতা প্রশিক্ষণসহ বিকল্প জীবিকাতেও সহায়তা দেয় পরিবর্তন। ব্যাংকের হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামাজিক দায়বদ্ধতায় তারা ১,৩১৬.১৮ কোটি রুপি খরচ করেছে, সে বছর ভারতের ৪৯৮টি সীমান্ত গ্রামে কার্যক্রম বাড়িয়েছে এবং পরিবর্তনে মোট বিনিয়োগ প্রায় ৭,৪৯২ কোটি রুপি। টেকসই চাষ, সংগঠিত হওয়া ও বাজার সংযোগের মাধ্যমে পাঁচ লাখ স্বল্প আয়ের কৃষকের বার্ষিক আয় বাড়ানো তাদের গ্রামীণ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ। পরিসংখ্যানগুলো ব্যাংকের নিজের দেওয়া।
ছবি: Umarsami / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0), কাশ্মীরের পাম্পোরের জাফরান খেত
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)