সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৭১%বাতাস ১ কিমি/ঘ

টাঙ্গাইলে পাট চাষে কৃষকের মুখে হাসি

টাঙ্গাইলে এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই 'সোনালি আঁশ' পাটের দাম গত বছরের চেয়ে বেশি পাচ্ছেন কৃষকেরা। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি জেলার পাট চাষিরা। বোরো ধানের চেয়ে এবার জেলায় পাটের আবাদ ভালো হয়েছে বলে চাষিরা জানিয়েছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, পাট চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইলে এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই 'সোনালি আঁশ' পাটের দাম গত বছরের চেয়ে বেশি পাচ্ছেন কৃষকেরা। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি জেলার পাট চাষিরা। বোরো ধানের চেয়ে এবার জেলায় পাটের আবাদ ভালো হয়েছে বলে চাষিরা জানিয়েছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, পাট চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

জানা যায়, জেলায় গত বছরের চেয়ে চলতি বছর পাটের আবাদ কমেছে। এবার পাটের আবাদ কমলেও অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত বীজ এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় ভালো ফলন হয়েছে। গত বছর পানি সংকটের কারণে অনেক কৃষক পাট জাগ দিতে পারেননি। ফলে অনেকের পাট নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক। গত কয়েকদিন ধরে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানো ও শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। পরিবারের অন্যরা এসব কাজে সহযোগিতা করছেন। বিশেষ করে নারীদের এ কাজে দেখা গেছে। এরই মধ্যে অনেকেই ভালো দামে বিক্রিও করছেন। বাজারে পাটের দামও ভালো পাওয়ায় তারা বেশ খুশি। পাটের বাম্পার ফলনে আশার আলো দেখছেন। তবে পাট কাটায় খরচ অনেক বেড়ে যাওয়া এবং জমিতে পানি কম থাকায় কৃষকেরা বেকাদায় পড়েছেন।

চাষিরা জানান, এবার প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ৯ মণ পাটের ফলন হয়েছে। গত বছর প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫শ' থেকে ২ হাজার ৭শ' টাকায়। এবার সেই দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২শ' টাকায়। গত বছর পাট চাষে লোকসান গুনতে হয়েছিল। চলতি মৌসুমে আবাদ ভালো হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন। এতে তারা খুশি। বিশেষ করে গত বছরের চেয়ে এবার বাজারে পাটের দামও বেশি। বোরো ধানের চেয়ে এ বছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, গত বছর জেলায় ১৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে পাটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৮১৮ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ৩৬১ হেক্টর। পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩শ' বেল। এবার দেশি, তোষা, কেনাফ, মেস্তা জাতের পাট আবাদ করা হয়েছে। এবার সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে ভূঞাপুর এবং সবচেয়ে কম আবাদ হয়েছে ধনবাড়ী উপজেলায়।

কৃষি বিভাগ জানায়, সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৩৭৫ হেক্টর, বাসাইলে ৪৮০ হেক্টর, কালিহাতীতে ১ হাজার ১৭০ হেক্টর, ঘাটাইলে ৭৯০ হেক্টর, নাগরপুরে ১ হাজার ৮৬০ হেক্টর, মির্জাপুরে ১ হাজার ৩১৮ হেক্টর, মধুপুরে ১৬৩ হেক্টর, ভূঞাপুরে ৩ হাজার ৯১৫ হেক্টর, গোপালপুরে ৩ হাজার হেক্টর, সখীপুরে ২৭৫ হেক্টর, দেলদুয়ারে ১ হাজার ৯০৫ হেক্টর, ধনবাড়ীতে ১১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সদর উপজেলার কৃষক কাজিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, '৪০ শতাংশ জমিতে এবার পাটের আবাদ করেছি। বাজারে দামও ভালো। এতে আমরা অনেক খুশি। প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ৯ মণ পাট পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর পাট কাটার আগেই নষ্ট হয়ে লোকসান হয়েছিল।'

আয়নাল হক নামের আরেক কৃষক জাগো নিউজকে বলেন, 'আমি ৫০ শতাংশ জমিতে পাটের আবাদ করেছি। এতে আমার ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করছি ১৫ থেকে ১৬ মণ পাট পাবো। প্রায় ৬০ হাজার টাকায় পাটগুলো বিক্রি করতে পারবো। এ বছর বোরো ধানের চেয়ে পাটের আবাদ ভালো হয়েছে।'

কৃষক নূরনবী জাগো নিউজকে বলেন, 'গত বছর আমাদের লোকসান হয়েছিল। এ বছর দাম বেশি হওয়ায় লাভবান হচ্ছি। যারা এবার পাটের আবাদ করেছেন; তারাই ভালো ফলন পাচ্ছেন এবং লাভবান হচ্ছেন। এবার পাট চাষে খরচও বেশি হচ্ছে। অনেক সময় পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানিও ঠিকমতো পাওয়া যায় না।'

শ্রমিক আব্দুর রৌফ জাগো নিউজকে বলেন, 'প্রতিদিন পাট ছাড়ানোর কাজ করছি। প্রতিদিন ৫শ' টাকা পাচ্ছি।'

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, 'টাঙ্গাইল জেলা পাট উৎপাদনে অন্যতম। বর্তমানে কৃষকেরা বাজারে পাটের দাম ভালো পাচ্ছেন। আমরা সরকারিভাবে পাট চাষিদের প্রণোদনা, বিনা মূল্যে বীজ বিতরণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করেছি। এ বছর পাটের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছি।'

আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসইউ/এমএস

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

উল্লাপাড়ায় আগাম খিরা উঠতে শুরু, আড়তে মণ ১,২০০ থেকে ১,২৫০ টাকা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ৩৬০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২২৫ হেক্টরে খিরা বোনা হয়েছে; চরবদ্ধনগাছা ও চাকশা আড়তে আগাম খিরা চড়া দামে বিকোচ্ছে।

কৃষি সময়১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফসল

ইটনার হাওরে ডিলারের সার মিলছে না, বস্তায় ২০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনছেন কৃষক

বোরোর জমি তৈরির সময়ে কিশোরগঞ্জের ইটনায় ১০৮ বস্তা বিএডিসির ডিএপি সারসহ একটি নৌকা আটক করেছে নৌ পুলিশ; কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারের বরাদ্দ এলাকায় না আসায় চোরাই সার কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে।

সমকাল১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

জয়পুরহাট ও বগুড়ায় কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিকল্পনা, আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানির জন্য জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ও বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার কথা ভাবছে কৃষি মন্ত্রণালয়; পঞ্চগড়ের ২১৭.৭৮ একর খাসজমিও যাচাই হবে।

এগ্রিকেয়ার২৪১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)