উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে জয়পুরহাট ও বগুড়ায় কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তারাপানি মৌজা এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভাকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে কৃষি সচিব মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রস্তাবিত জায়গাগুলোর জমি ও অবকাঠামো যাচাই করে আগে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হবে। এ জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) তৈরি করবে, সহযোগিতা দেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সমীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব অঞ্চলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানির সমন্বিত ব্যবস্থা থাকবে। আধুনিক হিমাগার, পণ্য বাছাই ও মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও পরীক্ষাগার স্থাপনের কথাও আছে পরিকল্পনায়।
জয়পুরহাট ও বগুড়াকে আগে বেছে নেওয়ার কারণ এ দুই জেলার উৎপাদন, বাজার ও যোগাযোগ সুবিধা। জয়পুরহাটে ধান, আলু, ভুট্টা, সরিষা ও শাকসবজি হয়; বগুড়ায় ধান, আলু, ভুট্টা, শাকসবজি ও ফলের পাশাপাশি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক যোগাযোগ।
পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নামে বরাদ্দ ২১৭ দশমিক ৭৮ একর অকৃষি খাসজমিতে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা যায় কি না, তা-ও যাচাই হবে; এ জন্য ইনভেস্ট বাংলাদেশের লিখিত সম্মতি নেওয়া হবে। গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহীসহ অন্য জেলার জমির তথ্যও পর্যালোচনায় আছে।
সভায় ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) সালেহ আহমেদ বলেন, জমি চূড়ান্ত করার আগে সম্ভাব্যতা যাচাই দরকার, আর আইআইএফসি বা এমআইএসটির মতো প্রতিষ্ঠান দিয়ে সেই সমীক্ষা করা যেতে পারে। কৃষি সচিব জানান, শুধু কারখানা বসানো নয়, কৃষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও রপ্তানিকারকদের নিয়ে একটি কার্যকর কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়াই উদ্দেশ্য।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন অঞ্চল হলে কাঁচা পণ্যের বদলে প্রক্রিয়াজাত পণ্য বাজারে নেওয়ার সুযোগ বাড়বে, অপচয় কমবে, আর কৃষকের ন্যায্য দাম, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। খবরটি প্রথম প্রকাশ করে খবরের কাগজ।
ছবি: Hridoye Mati O Manush / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)