কিশোরগঞ্জের ইটনায় পাচারের সময় বিএডিসির ১০৮ বস্তা ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সারসহ একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আটক করেছে নৌ পুলিশ। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এলংজুড়ি বাজার ঘাট থেকে সারগুলো আটক হয়; ৫০ কেজির বস্তায় মোট ৫ হাজার ৪০০ কেজি। নৌ পুলিশের ধনপুর ফাঁড়ির পরিদর্শক জামাল হোসেন জানান, অভিযানের খবর পেয়ে পাচারকারীরা আগেই পালিয়ে যায়।
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল জেলার প্রধান বোরো এলাকা। এখন বোরোর জমি তৈরি চলছে, আর এ সময় ডিএপিসহ ননইউরিয়া সার লাগে বলে হাওরে চাহিদা বেশি। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত সার মিলছে না, সেই সুযোগে চোরাকারবারিরা বাইরে থেকে সার এনে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রি করছে।
এলংজুড়ির কৃষক হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন জানান, ডিলারের সার চাহিদামতো এলাকায় আসছে না, ফলে বাধ্য হয়ে তাঁদের চোরাই সার কিনতে হচ্ছে। ১,৫৫০ টাকার এক বস্তা ডিএপির জন্য বাড়তি ১০০ থেকে ২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, বাদলা ইউনিয়নের ডিলার আব্দুল মান্নান এলংজুড়ি ও জয়সিদ্ধি ইউনিয়নেরও দায়িত্বে আছেন, কিন্তু তাঁর তোলা সার খুব কমই এলংজুড়িতে পৌঁছায়। তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।
নৌকার মালিক ও মাঝি ইকবাল মিয়া জানান, এলংজুড়ি বাজারের তিন ব্যবসায়ী মিঠামইন থেকে ২৫০ বস্তা সার আনতে তিন হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া করেন। ভৈরব থেকে বড় নৌকায় আনা সারের মধ্যে ২৫০ বস্তা তাঁর নৌকায় তোলা হয়; এর ১৪২ বস্তা আগেই নামিয়ে ফেলা হয়, বাকি ১০৮ বস্তা আটক হয়।
ইটনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিজয় কুমার হালদার বলেন, জব্দ সার ডিলার আব্দুল মান্নানের নয়, চোরাকারবারিদের। এলংজুড়ি ও জয়সিদ্ধি ইউনিয়নে নতুন দুজন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাই ডিসেম্বর থেকে ওই দুই ইউনিয়নের সার আব্দুল মান্নান আর বরাদ্দ পাবেন না।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, সারগুলো তাদের হেফাজতে আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন, তাঁদের পরামর্শে মামলার সিদ্ধান্ত হবে।
ছবি: Frameofashik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)