কাটার কয়েক দিন আগে অসময়ের ঝড়বৃষ্টিতে পাবনার ঈশ্বরদী ও নাটোরের লালপুরের মাঠে মাঠে আমন ধান নুয়ে পড়েছে, অনেক খেতে পানি জমে আছে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের তথ্য, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বুধ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এ দুই এলাকায় ১১৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। নুয়ে পড়া ধান বেঁধে দিতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি অফিস।
ঈশ্বরদীতে এবার ৩,৭৭০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রোপা আমন হয়েছে ৩,৭৯০ হেক্টরে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, ফলন ভালো হয়েছিল; বিশেষ করে ব্রি ধান ১০৩ জাতে বিঘায় ২০ থেকে ২২ মণ ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু মধ্য কার্তিকের ঝড়বৃষ্টিতে বিঘাপ্রতি প্রায় ৫ মণ ফলন কমতে পারে।
মুলাডুলি গ্রামের কৃষক মুরাদ আলী মালিথা বলেন, প্রায় পাকা শীষসহ গাছ জলাবদ্ধ জমিতে শুয়ে পড়েছে; ১০-১৫ দিন পর কাটার সময় বিঘায় চার-পাঁচ মণ কম আসবে। বাঘইল গ্রামের নজরুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, এমনিতেই ধানে লাভ হয় না, পাকার শেষ সময়ের এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।
লালপুরে এবার ৯,৩৮০ হেক্টরে আমন হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্য ৫১,২১৫ টন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, ধান কাটা শুরুর আগেই তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে অন্তত ১৫০ হেক্টরের ধান নুয়ে পড়েছে; ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ হয়নি।
রাকসা গ্রামের আবুল কালাম তিন বিঘায় ধান করেছিলেন। তাঁর প্রায় ১০ কাঠার ধান হেলে পড়েছে, খেতে হাঁটুসমান পানি; দ্রুত পানি না নামলে হেলে পড়া ধান পচে যাবে বলে আশঙ্কা তাঁর।
কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, আবহাওয়া পরিষ্কার হলে নুয়ে পড়া ধানের তেমন ক্ষতি হবে না, তবে দ্রুত পানি না সরলে কৃষক ক্ষতিতে পড়বেন। আবহাওয়া অফিস বলছে, দুই দিন মেঘলা থাকার পর আকাশ পরিষ্কার হবে। প্রতিবেদনটি সমকালের ঈশ্বরদী (পাবনা) ও লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধির।
ছবি: Salauddin.hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)