বিশ্বের অর্ধেকের বেশি কোকো উৎপাদনকারী দুই দেশ আইভরি কোস্ট (কোত দিভোয়ার) ও ঘানা ২০২৬-২৭ মৌসুমে চাষিদের জন্য একেবারে আলাদা দাম ঠিক করেছে; আইভরি কোস্টের দাম এখন ঘানার চেয়ে অনেক কম। দুই দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিশ্চিত করা তথ্য দিয়ে খবরটি দিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার।
আইভরি কোস্টের কফি-কোকো কাউন্সিল প্রধান মৌসুমের দাম ঠিক করেছে কেজিপ্রতি ১,২০০ সিএফএ ফ্রাঁ, প্রায় ২.০৭ ডলার। ঘানার কোকোবোড ঠিক করেছে টনপ্রতি ৪২,৪০০ সেডি, অর্থাৎ কেজিতে প্রায় ৩.৬৫ ডলার। আইভরি কোস্টের নতুন দাম ২০২৫-২৬ মৌসুমের কেজিপ্রতি ২,৮০০ ফ্রাঁর চেয়ে ৫৭ শতাংশ কম।
আইভরি কোস্টের ১১ লাখের বেশি নিবন্ধিত কোকো চাষি এতে ক্ষতিগ্রস্ত। ঘোষণার সঙ্গে উদ্ধৃত গবেষণা অনুযায়ী, দেশটির কোকো চাষি পরিবারের গড় আয়ের ৬৭ শতাংশই আসে কোকো বিক্রি থেকে, তাই অন্য জায়গা থেকে এই ধাক্কা সামলানোর সুযোগ কম।
ফারাকের মূল দুই দেশের দাম নির্ধারণের সূত্রে। ঘানার আইন অনুযায়ী চাষিরা রপ্তানির প্রকৃত এফওবি মূল্যের অন্তত ৭০ শতাংশ পাবেন; এবার কোকোবোড তা ঠিক করেছে ৭১.১৮ শতাংশ। আইভরি কোস্টের ন্যূনতম দাম একটি সিআইএফ মানদণ্ডের ৬০ শতাংশ, অস্থির বাজারে যা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নামানো যায়।
আইভরি কোস্ট সরকার দায় দিয়েছে অস্থির বিশ্ববাজার ও আগাম বিক্রিকে। মার্চ থেকে জুনের মধ্যে কফি-কোকো কাউন্সিল ১১ লাখ টনের বেশি কোকো আগাম বিক্রি করেছিল, যখন দাম ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের রেকর্ড উচ্চতা থেকে অনেক নেমে গিয়েছিল। কৃষিমন্ত্রী ব্রুনো নাবানিয়ে কোনে বলেছেন, আগে হওয়া বিক্রির ভিত্তিতে যত বেশি সম্ভব দাম ঠিক করাই ছিল সরকারের দায়িত্ব।
ফলে একই চকলেট বাজারে জোগান দেওয়া দুই প্রতিবেশীর চাষিদের ভাগ্য এবার আলাদা: ঘানার পদ্ধতিতে আয় বাঁধা ক্রেতার চূড়ান্ত দামের সঙ্গে, আর আইভরি কোস্টের পদ্ধতি ও আগাম বিক্রির কৌশল বাজার উল্টো দিকে গেলে চাষিকে বেশি ঝুঁকিতে ফেলে।
ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)