নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত আন্তর্জাতিক চাল সম্মেলনে (বিআইআরসি ২০২৬) ধান গবেষণা, উদ্ভাবন ও খাদ্য নিরাপত্তায় বৈশ্বিক নেতৃত্বের সম্মাননা পেয়েছে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)। সম্মেলনের আয়োজক ভারতীয় চাল রপ্তানিকারক ফেডারেশন, সঙ্গে ছিল কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এপেডা) এবং ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। ইরি ছিল সম্মেলনের জ্ঞান অংশীদার।
এক কারিগরি অধিবেশনে ইরির বিজ্ঞানী ও ভারতের অন্তর্বর্তী কান্ট্রি ম্যানেজার ড. স্বাতী নায়েক বলেন, ধান উৎপাদন বদলাতে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও উপযুক্ত প্রণোদনা দরকার। তাঁর কথায়, "ফসল বহুমুখীকরণের অজুহাতে ধান গবেষণায় বিনিয়োগ কমানো চলবে না।" তিনি বলেন, প্রমাণিত প্রযুক্তিও স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সাজাতে হবে এবং নীতি সহায়তা না পেলে কৃষক তা গ্রহণ করতে পারবেন না।
ইরির বিজ্ঞানী ড. প্রিয়ব্রত রায় পুষ্টিনির্ভর জাতের কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে আছে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) ও জিংক সমৃদ্ধ ধান। তিনি বলেন, এসব জাত ভারতের কালানমক, কালাজিরা, জোহা, গোবিন্দভোগ ও নাভারার মতো ঐতিহ্যবাহী ও ভৌগোলিক নির্দেশক পাওয়া চালের পাশাপাশি নতুন বাজার খুলতে পারে। তাঁর ভাষায়, "পরের ধান বিপ্লব আসবে পুষ্টি, মূল্য সংযোজন ও বাজারে আলাদা পরিচয় থেকে।"
ড. সৌরভ বাদোনি জলবায়ু সহনশীল এমন জাত উদ্ভাবনের ওপর জোর দেন, যাতে চালের মানও ভালো থাকে, কারণ উচ্চ তাপমাত্রা ও খরা দানার মান নষ্ট করতে পারে। প্রদর্শনীতে ইরি উচ্চ প্রোটিন, কম জিআই ও পুষ্টি সমৃদ্ধ জাত দেখায়। ইরির বিজ্ঞানী ড. শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, আয়রন ও জিংক সমৃদ্ধ ধান অণুপুষ্টির ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করতে পারে।
নীতিনির্ধারক, গবেষক, রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকেরা এই সম্মেলনে একত্র হন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরির সামনে কাজ হলো গবেষণার অগ্রগতি যেন কৃষক ও ভোক্তার কাছে টেকসই উৎপাদন, ভালো বাজার ও উন্নত পুষ্টি হয়ে পৌঁছায়।
ছবি: CIAT / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)