সার, গোবর ও পয়োবর্জ্য থেকে পুষ্টি পেয়ে বিষাক্ত শৈবাল ইউরোপজুড়ে উপহ্রদ, হ্রদ ও সৈকত ঢেকে দিচ্ছে; বন্ধ হচ্ছে সাঁতারের জায়গা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জেলেরা। জলবায়ু-অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ডিস্মগের (DeSmog) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোনিউজ। উষ্ণ সাগর শৈবালের বৃদ্ধি আরও দ্রুত করছে; কিছু শৈবালে বমিভাব, বমি ও চামড়ায় ফুসকুড়ি হয়, আর এই গ্রীষ্মে মহাদেশজুড়ে কয়েকশ জায়গায় সাঁতার নিষিদ্ধ করা হয়।
স্পেনের মার মেনর (Mar Menor) ইউরোপের সবচেয়ে বড় লোনাপানির উপহ্রদ। গবেষণার হিসাবে এতে ঢোকা পুষ্টির প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে কৃষি থেকে, বাকিটা শহর থেকে। এলাকার নিবিড় চাষাবাদ থেকে আসা গোবর, তরল বর্জ্য ও সারের প্রবাহ সায়ানোব্যাকটেরিয়ার খাবার জোগায়। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে কর্তৃপক্ষ উপহ্রদের তীর ও পানি থেকে ৪ হাজার টনের বেশি শৈবাল সরিয়েছে। লো পাগানের জেলে রুবেন আলবালাদেহো বলেন, ‘আগে অনেক বেশি সি-ব্রিম আর চিংড়ি ধরতাম, এখন ধরা পড়ে অনেক কম।’ পানির তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রিতে উঠেছে বলেও জানান তিনি।
পশুপালনের দূষণ কমাতে স্পেনের পরিবেশ মন্ত্রণালয় ১ কোটি ১৫ লাখ ইউরোর বেশি অর্থে আটটি প্রকল্প চালাচ্ছে, যার মধ্যে আছে শূকরের তরল বর্জ্য শোধনের নতুন পদ্ধতি আর ভেড়াকে খোলা চারণভূমিতে সরিয়ে নেওয়া। এগুলো উপহ্রদ পুনরুদ্ধারের ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর জাতীয় কর্মসূচির অংশ, তবে ২০২৫ সালের শেষে সেই বাজেটের মাত্র প্রায় ১৬ শতাংশ খরচ হয়েছে। ২০২২ সালে উপহ্রদটিকে আইনি ব্যক্তিসত্তা দেওয়া হয়েছিল।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের লক নে (Lough Neagh) যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় হ্রদ, উত্তর আয়ারল্যান্ডের খাবার পানির ৪০ শতাংশ আসে এখান থেকে। ২০২৩ সাল থেকে প্রতি গ্রীষ্মে এখানে নীল-সবুজ শৈবাল দেখা দিচ্ছে। নিউ হারমোনিকা প্রকল্প ও ২০২৪ সালের লক নে প্রতিবেদনের হিসাবে হ্রদে ঢোকা ফসফরাসের প্রায় ৬১ শতাংশ কৃষি থেকে, ২৯ শতাংশ নর্দমার বর্জ্যপানি থেকে। ২০১৩ সাল থেকে সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় উত্তর আয়ারল্যান্ডে হাঁস-মুরগি এক-তৃতীয়াংশ আর শূকর ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। ১৯৭৫ সাল থেকে হ্রদে মাছ ধরা জেলে ডেক্লান কোনি বলেন, এ বছর মাছ ধরার জন্য ‘সবচেয়ে খারাপ’।
অফিস ফর এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশনের এপ্রিলের প্রতিবেদন বলছে, পশুখাদ্যে ফসফরাস ও নাইট্রোজেন কমানো এবং গোবর প্রয়োগ সীমিত করার নিয়ম আরও কড়া ও ভালোভাবে প্রয়োগ করতে হবে, আর কৃষকদের আরও সহায়তা দরকার। সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী অধ্যাপক রবি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, পানির মান ভালো করতে কৃষি ও বর্জ্যপানি দুই উৎসের দূষণ একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটির ড. পল লিওনার্ড সতর্ক করেন, হ্রদের তলানিতে জমা ফসফরাস বাইরের প্রবাহ কমার পরও শৈবালকে খাবার জোগাতে পারে। ফ্রান্সের ব্রিটানিতে আন্দোলনকারীরা সৈকতের সি-লেটুস শৈবালের জন্য শূকর খামারকে দায়ী করছেন।
ছবি: David Franklin Fernandez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)